মিরপুর টেস্টে বড় সংগ্রহের পথে পাকিস্তান। আজহার আলী ও ইউনিস খানের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ২ ম্যাচের সিরিজের ২য় ও শেষ টেস্টের ১ম দিনটি নিজেদের করে নিলো সফরকারীরা। আজ বুধবার ১ম দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ৩২৩ রান। ইউনিস ১৪৮ রানে আউট হলেও, আজহার ১২৭ রানে অপরাজিত আছেন। সফরকারীদের পতন হওয়া ৩টি উইকেটের মধ্যে বাংলাদেশের পেসার মোহাম্মদ শহীদ ২টি ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম ১টি উইকেট নিয়েছেন। খুলনার মত মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের রৌদ্রজ্জল সকালে টস ভাগ্যে জিতেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে ১ম ম্যাচের মত এবার আগে ব্যাট করেননি তিনি। প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত মুশফিক।
উইকেট ব্যাটিং উপযোগী হলে সকালের ফায়দাটা লুটতেই ১ম বল করার সিদ্বান্ত টাইগার দলপতির। তাই পাকিস্তানের পক্ষে ইনিংস উদ্বোধন করতে ক্রিজে হাজির মোহাম্মদ হাফিজ ও সামি আসলাম। আর বল হাতে প্রস্তুত রুবেলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া শাহাদাত হোসেন। কিন্তু ২য় বলেই বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলেন শাহাদাত। হাটুঁর ইনজুরিতে পড়েন তিনি। ফলে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। পরে শাহাদাতের শুরু করার ওভারটি শেষ করেন সৌম্য সরকার।
শাহাদাতকে নিয়ে যখন চিন্তার রেশ অধিনায়ক মুশফিকুরের কপালে, ঠিক তখনী দলকে ১ম সাফল্য এনে দেন আরেক পেসার মোহাম্মদ শহীদ। আগের ম্যাচের ১ম ইনিংসে ২২৪ রান করা হাফিজকে দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান শহীদ। ৪র্থ ওভারের ৩য় বলে উইকেটের পিছনে মুশফিকুরকে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৮ রানে থামেন হাফিজ। তখন দলের স্কোর ৯ রান। এরপর দলের হাল ধরেন সামি ও আজহার আলী। বাংলাদেশ বোলারদের সর্তকতার সাথেই মোকাবেলা করছিলেন এ ২ ব্যাটসম্যান। দলীয় ৩৯ রানে এ জুটিতে ভাঙ্গনও ধরিয়েছিলেন ১ম উইকেট শিকার করা শহীদ। আজহারকে ব্যক্তিগত ১৯ রানে আউট করেন তিনি। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় শহীদের ওই বলটি ‘নো’ ছিল। ফলে জীবন পান আজহার।
তবে পরবর্তীতে বেশি দূর এগোতে পারেনি সামি-আজহার জুটি। দলীয় ৫৮ রানে সামিকে বিদায় দেন স্পিনার তাইজুল। আর মাঠে ফিরেই সামির ক্যাচটি তালুবন্দি করেন শাহাদাত। ১৯ রান করেন সামি।
এরপর ৩য় উইকেটে জুটি বেঁেধ দলের স্কোর সামনের দিকে টেনে নিয়ে যান আজহার ও ইউনিস খান। সময় গড়ানোর সাথে সাথে উইকেটে দ্রুত সেট হয়ে পাকিস্তানকে বড় স্কোর ভীত গড়ে দেন তারা। এক পর্যায়ে ১৭৫ বলে শতরানের জুটিও গড়ে ফেলেন আজহার ও ইউনিস। এরই মাঝে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান দু’জনই। টেস্ট ক্যারিয়ারে আজহার ২০তম এবং ইউনিস ৩০তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান।
হাফ-সেঞ্চুরি করেও হাল ছাড়েননি আজহার ও ইউনিস। ছুটতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। পাকিস্তানী ইনিংসের ৭২তম ওভারের মধ্যেই দুজনই পূর্ন করেন সেঞ্চুরি। ম্যাচে প্রথমে সেঞ্চুরি পাওয়া ইউনিস টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তমবারের মত ৩ অংকে পা রাখেন। অবশ্য ইউনিসকে ব্যক্তিগত ৭৮ রানে আউট করেছিলেন সৌম্য। কিন্তু এবারও দুভার্গ্য বাংলাদেশের। এ বলটিও টিভি রিপ্লের সহায়তায় ‘নো’ ডাকেন ম্যাচের এক আম্পায়ার। ইউনিসের পর সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন আজহারও। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৮ম সেঞ্চুরি করেন তিনি। দুজনের ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি পূর্ণ হবার পর জুটিতে ডাবল-সেঞ্চুরি করেন তারা। ৩০৫ বলে জুটিতে ২০০ রানের কোঠা স্পর্শ করেন আজহার-ইউনিস।
দিনের শেষভাগে উইকেট বাচিঁয়ে খেলায় বেশি মনোযোগ হন ক্রিজে থাকা পাকিস্তানের ২ সেঞ্চুরিয়ান। কিন্তু তাদের মনোযোগকে দিনের শেষপর্যন্ত যেতে দেননি টাইগার পেসার শহীদ। ১৪৮ রান করা ইউনিসকে আউট করে ৩য় উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৫০ রানের জুটি ভাঙ্গেন শহীদ। ইউনিসের ১৯৫ বলের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কার মার ছিলো। দলীয় ৩০৮ রানে ইউনিসের বিদায়ের পর ক্রিজে আজহারের সঙ্গী হন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। দিনের বাকী সময়টুকু ভালোভাবেই শেষ করেন তারা। আজহার ১২৭ ও মিসবাহ ৯ রান নিয়ে ২য় দিনের খেলা শুরু করবেন।