গত বছর আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সাকিব আল হাসানের। মোট ১৩ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২২৭ রান ও নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। বিশেষ করে ওই আসরের সেমিফাইনালে ব্যাটে-বলে যেমন উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব, ফাইনালে ঠিক তেমনই।

এর আগে ২০১২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন সাকিব। ৮ ম্যাচে ওভার প্রতি ৬.৫০ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। তবে ব্যাট করার তেমন সুযোগ পাননি। সেবার নামের পাশে যোগ করেছিলেন ৯১ রান।

দুবারই শিরোপা জয়ের পর সাকিবকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে প্রশংসার বানে ভাসাতেও ভুল করেননি বলিউড তারকা। শাহরুখের সুর ধরে সাকিব-বন্দনায় মেতেছিলেন গৌতম গম্ভীরও।

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আইপিএলের অষ্টম আসরে খেলছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই আসরের প্রথম দুটি ম্যাচও খেলেছেন সাকিব। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ থাকায় কলকাতা ছেড়ে এসেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবকে কলকাতার কতটা প্রয়োজন, তা গম্ভীরের বারবার আফসোস থেকেই স্পষ্ট। তাকে ভীষণ মিস করছেন নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক।

ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে গম্ভীর লিখেছেন, ‘সাকিব দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল। এখন আমাদের দলের সমন্বয় পরিবর্তন করতে হবে। অবশ্যই তাকে আমরা দলে চাই। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দলের জন্য সে বড় সম্পদ। আমরা সাকিবকে ভীষণ মিস করছি।’

এদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সাকিবকে দিয়ে নাকি সবচেয়ে কঠিন কাজটিই করাতেন গম্ভীর। আর সেই কঠিন কাজটি হচ্ছে, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির পাওয়ার-প্লেতে বোলিং করা। এ সময়ে সাধারণত ব্যাটসম্যানরা নিষ্ঠুর হয়ে ওঠেন। দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের ওপর দিয়ে বয়ে যায় স্টিম রোলার। তাদের সামলাতে হয় সেই ধকল।

আর সাকিবই নাকি এই কঠিনতম কাজটির জন্য গম্ভীরের পছন্দ ছিল। তা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়কের ভাষায়ই বোঝা যায়, ‘পাওয়ার-প্লেতে যে কোনো বোলারের জন্য বোলিং করা খুবই কঠিন, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। এই কঠিন কাজটিই করত সাকিব। তাকেই আমার পছন্দ ছিল। পাওয়ার-প্লেতে অনেক ভালো বল করে সে। রান কম দিয়ে প্রতিপক্ষকে বেশ চাপে রাখতে পারে।’