ম্যাচ শুরুর আগে বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন ২৭৫ বা ৩০০ রান তাড়া করেও জয় সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা শহরের মানুকা ওভাল স্টেডিয়ামের এই মাঠে। তাই বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় টাইগারদের ইনিংসটা যখন শেষ হয় তখন কিছুটা হলেও শঙ্কিত ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে আর খেলা শুরুর আগে আফগানদের হুক্কারের জবাবটা দিল টাইগাররা। ২৬৮ রান তাড়া করতে নেমে  ৪২.৫ ওভারে ১৬২ রানে তারা অলআউট করে দেয় আফগানদের। বাংলাদেশ জয় পায় ১০৫ রানে।

খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে মাশরাফি ও রুবেলের বোলিং তাণ্ডবে প্রথম তিন ওভারে মাত্র তিন রানে আফগানরা হারায় ৩ ব্যাটসম্যান। মাশরাফি দুটি এবং রুবেল তুলে নেন একটি উইকেট। চতুর্থ  উইকেট জুটিতে ৬২ রান যোগ করে তারা।  এই জুটি ভাঙেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউটে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। 

মাশরাফি তিনটি সাকিব নেন দুটি উইকেট। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ, তাসকিন, রুবেল নেন একটি করে উইকেট। আফগানদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করেন নবী ৪৪, সামিউল্লাহ ৪২। এছাড়া নওরোজ ২৭, জাদরান ১৭, আফতাব করেন ১৪ রান।

এরআগে প্রথম ইনিংসে দলের বিপদের মুহূর্তে টাইগারদের হয়ে প্রতিরোধের দেয়াল গড়েন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। দুজনই তুলে নিয়েছেন অর্ধশত। এই দুই ব্যাটসম্যানের দৃড়তায় পঞ্চম উইকেট জুটি থেকে আসে ১১৪ রান।

দলীয় ৪৭ রানে তামিম ও ৫২ রানে বিজয় পরপর এই দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান হারিয়ে কিছুটা হোঁছট খেলেও ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। তৃতীয় উইকেট জুটি থেকে আসে ৫০ রান। ঘুরে দাঁড়ানোর এই চেষ্টায় আঘাত হানেন যাদরান। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি তুলে নেন তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট। অর্থাৎ ১১৯ রানে টাইগারদের নেই ৪ উইকেট। এ সময় সাকিব ও মুশফিকের জুটি থেকে শতাধিক রান যুক্ত হয়।

সৌম্য সরকার ২৫ বলে ২৮ রান করে দলীয় ১০২ রানের সময় জাদরানের বলে এলবি হন। জাদরানের বোলিংয়েই আউট হন অপর নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি করেন ৪৬ বলে ২৩ রান।

এর আগে আনামুল হক বিজয় সাজ ঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। ব্যক্তিগত ১৯ এবং দলীয় ৪৭ রানে সাজ ঘরে ফিরে যান তামিম। এই দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান আউট হন আশরাফের বলে। সাকিব ৫০ বল খেলে ৬৩ আর মুশফিক ৫৬ বলে ৭১ রান করে আউট হন ।  এছাড়া মাশরাফি করেন ১৪ রান।

আফগানদের পক্ষে হামিদ হাসান, সপুর জাদরান, আফতাব আলম, আশরাফ নেন দুটি করে এবং নবী নেন  একটি উইকেট। মুুমিনুল হন রান আউট।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ গুরুত্ব পূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে এই  আসরে দেখা হচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড ছাড়াও ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে । আর তাই আফগানিস্তানের কাছে টাইগাররা হারলে কোয়ার্টার-ফাইনালের স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে যাওয়ার আশঙ্কাটা ছিল।  বাংলাদেশ বিশ্বকাপে এই ম্যাচটিসহ খেলেছে ২৬টি ম্যাচ। এরমধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে এবং  ১৭টিতে পরাজিত হয়েছে।