এটা যেন নিয়তিই। মেসি ম্যাজিক থাকতেই হবে। না হলে কোন ফাইনাল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ যে পূর্ণতা পায় না! ন্যু ক্যাম্পে মেসি না থাকলে কোপা ডেল রের ফাইনালও যেন পূর্ণতা পেতো না। লিওনেল মেসির ম্যাজিকেই স্প্যানিশ কিংস কাপের (কোপা ডেল রে) আরেক কিং অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নিল বার্সেলোনা।

ট্রেবল জয়ের পথে দ্বিতীয় শিরোপাটাও পাওয়া হয়ে গেলো বার্সার। স্প্যানিশ লা লিগা শুরুতে। এরপর শনিবার রাতে মেসির জোড়া গোলে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারাল কাতালানরা। বাকি গোলটি করেন নেইমার। ট্রেবল জয়ের পথে বাকি রইল শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ৬ জুন ট্রেবল জয়ের জন্য ইতালির জুভেন্তাসের মুখোমুখি হবে বার্সা।

মেসি-নেইমার-সুয়ারেজকে দিয়ে গড়া বার্সার আক্রমণভাগ কতটা বিধ্বংসী তা গত কয়েকমাসে টের পেয়েছে প্রতিপক্ষরা। সর্বশেষ টের পেলো অ্যাথলেটিক বিলবাও’ও। এই তিন জনের পা থেকে এখনও পর্যন্ত এ মৌসুমে গোল এসেছে মোট ১২০টি।

কিংস কাপের ফাইনালেও বার্সার অপ্রতিরোধ্য আক্রমণত্রয়ীর অসাধারণ পারফরম্যান্স। খেলার ১০ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সা। নেইমারের দুর্দান্ত এক ভলি বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। কিন্তু গোলে নেশা যে জাদুকরের, তাকে কি থামিয়ে রাখা যায়। যায়নি ২০তম মিনিটেও।

এবার অসাধারণ এক গোল করলেন মেসি। যেন চোখে লেগে থাকার মত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্নের বিপক্ষে অসাধারণ এক গোল করে সারা পৃথিবীর নজর কেড়েছিলেন মেসি। এবারও কাড়লেন। নিশ্চিত এই গোলটিও আগামী কয়েকদিন আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
অ্যাথলেটিকোর ডিফেন্সিভ হাফে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন মেসি। এরপর অসাধারণ ড্রিবলিং। কাটালেন ৪জন ডিফেন্ডারকে। এরপরই বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে পরাস্ত করেন বিলবাও গোলরক্ষককে।

এরপর যেন আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে বার্সা। একের পর এক আক্রমণে ব্যাস্ত করে তোলে বিলবাও রক্ষণকে। ২৭তম মিনিটেই দু’বার বেঁচে যায় বিলবাও। প্রথমবার জেরার্ড পিকেকে ফিরিয়ে দেন তাদের গোলরক্ষক। এরপর দুর্দান্ত শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৩৬তম মিনিটে গোল করলেন নেইমার। এবারও গোলের উৎস মেসি। তার কাছ থেকে বল পান র‌্যাকিটিক। তিনি পাস দেন সুয়ারেজকে। তাকে ঠেকাতে গোলরক্ষক এগিয়ে আসলে সুয়ারেজ আলতো টোকায় বল দিয়ে দেন নেইমারকে। ফাঁকা পোস্টে বল জড়াতে কোনই বেগ পেতে হয়নি ব্রাজিল তারকার।
৪২তম মিনিটে একটি গোল শোধ করার দারুন সুযোগ পেয়েছিল বিলবাও। দলটির ২০ বছর বয়সী তারকা ইনাকি উইলিয়ামসের শট বারে লেগে ফিরে আসলে হতাশা বাড়ে ২৩বার কিংস কাপ জয়ী দলটির।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বিলবাও। কিন্তু তাদের কোন আক্রমণই বার্সার রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। বরং ৭৪ মিনিটে গোল করে বার্সার জয় নিশ্চিত করেন মেসি। ৭৯ মিনিটে সেই উইলিয়ামসের গোলে ব্যবধান কমায় বিলবাও। তবে ৩১ বছর পর কোপা ডেল রের শিরোপা জিততে এসেও হতাশ হতে হলো তাদের।