ফাইনালে যাওয়ার জন্য কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। অন্তত চার গোলের ব্যবধান নিয়ে ম্যাচ জিততে হবে ভাবারিয়ানদের। তবে, সেটা কোন গোল হজম না করেই। গোল হজম করলে ব্যবধান অবশ্যই আনুপাতিক হারে বাড়বে।

আলিয়াঞ্জ এরেনায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখই। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে পয়েন্ট সমান হলেও, মোট গোলের ব্যবধান বলুন আর অ্যাওয়ে গোলের ব্যবধান বলুন, কোনটাতেই এগিয়ে থাকতে পারলো না। ফলে ৩-২ গোলে বায়ার্ন মিউনিখ জিতলেও, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে লিওনেল মেসি- নেইমার ডি সিলভাদের বার্সেলোনাই।

প্রথম লেগে, গত সপ্তাহে ন্যু ক্যাম্পে মেসির জোড়া গোলে বায়ার্নকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল বার্সেলোনা। ফলে দ্ইু লেগ মিলিয়ে বার্সা ৫-৩ ব্যবধানে বায়ার্নকে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করলো তারা।

আলিয়াঞ্জ এরিনায় বার্সার হয়ে দুটি গোলই করেন ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন নেইমার। বায়ার্নের হয়ে গোল তিনটি করেন মেদি বেনাতিয়া, রবার্ট লেওয়ানডস্কি, থমাস মুলার।
কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতেও অ্যারিয়েন রোবেন এবং ফ্রাঙ্ক রিবেরিকে পেলেন না কোচ পেপ গার্দিওলা। বলা যায় ভঙ্গুর একটি দল। তবুও খেলার ৭ মিনিট যেতে না যেতেই গোল হজম করে বার্সা। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে দারুন এক হেড করে বার্সার জালে বল জড়ান মেদি বেনাতিয়া।

তবে সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি বার্সা। ১৫তম মিনিটে বার্সার আক্রমণত্রয়ী মেসি-সুয়ারেজ এবং নেইমারের চমৎকার কম্বিনেশন থেকেই প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় কাতালানরা। মাঝ মাঠের একটু ওপর থেকে সুয়ারেজকে পাস দেন মেসি। এরপর ডি বক্সে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেইমারকে পাস দেন সুয়ারেজ। ফাঁকায় পেয়ে বলটি বায়ার্নের জালে জড়িয়ে দেন নেইমার।

১৪ মিনিট পর (২৯ মিনিটে) আবারও গোল। এবারও গোলদাতা নেইমার এবং পাসদাতা সুয়ারেজ। ২-১ গোলে এগিয়ে গেলো বার্সা। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল সম্ভবত। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে ৫৯ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় বার্সা। রবার্ট লেওয়ানডস্কির অসাধারণ এক শট জড়িয়ে যায় বার্সার জালে। ৭৪ মিনিটে বায়ার্নের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন থমাস মুলার।