ঢাকা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠতে হলে কঠিন এক পাহাড় ডিঙাতে হবে বায়ার্ন মিউনিখকে। সেমিফাইনালের প্রথম বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ায় ফাইনালে যেতে হলে ফিরতি লেগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিশাল ব্যবধানে হারাতে হবে পেপ গার্দিওলার দলের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার রাত পৌনে একটায় বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার জার্মান জায়ান্টদের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা।

এর একদিন পর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাসকে আতিথ্য দিবে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারায় জুভরা।

বার্সেলোনার ফাইনালে উঠার পথ যতোটা সহজ বায়ার্নের পথ ঠিক ততোটা কঠিন। দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নের কাছে ২-০, ৩-১ বা ৪-১ গোলে হারলেও ফাইনালে উত্তীর্ণ হবে কাতালান জায়ান্টরা।

অন্যদিকে ফাইনালে যেতে হলে ঘরের মাঠে লুইস এনরিকের দলকে কমপক্ষে ৪-০ গোলে হারাতে হবে বায়ার্ন মিউনিখের। খেলাকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেয়ার জন্য ৩-০ গোলে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করতে হবে। বার্সেলোনা যদি গোল করে বসে তবে ব্যবধান ৫-১ বা ৬-২ করতে হবে বায়ার্নকে, যেটা রীতিমতো অসাধ্য।

গত সপ্তাহে জার্মান কাপের সেমিফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে ট্রেবলের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখের। ফলে লিগ শিরোপা জেতা পেপ গার্দিওলার দল চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাকে টার্গেট করেন। যদিও প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে ফাইনালের পথ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যায় বাভারিয়ানদের জন্য।

অন্যদিকে বায়ার্নের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ট্রেবল জেতার পথেই রয়েছে লুইস এনরিকের দল। কোপা ডেল রে’র ফাইনালে চলতি মাসের শেষের দিকে ঘরের মাঠে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। লা লিগার ২ ম্যাচ বাকি থাকতে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা কাতালানরা লিগ শিরোপা জয় থেকে মাত্র একটি জয় দূরে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে কোনো অঘটন না ঘটলে ফাইনালে পা রাখবে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

টিম নিউজ:

বার্সেলোনা: মঙ্গলবারের ম্যাচকে সামনে রেখে সোমবার কঠোর অনুশীলন করে লুইস এনরিকের বার্সেলোনা। ইনজুরির কারণে প্রথম লেগে দলটির ফরাসি ডিফেন্ডার জেরেমি ম্যাথিউ খেলতে না পারলেও দ্বিতীয় লেগের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। জর্ডি মেসিফ, ডগলাস পেরেইরা, মার্টিন মন্টোয়া ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সব খেলোয়াড়কেই দ্বিতীয় লেগে পাচ্ছেন এনরিক।

বায়ার্ন মিউনিখ: ইনজুরি নিয়ে বার্সেলোনা যতোটা নির্ভার ঠিক ততোটা চিন্তাগ্রস্থ বায়ার্ন মিউনিখ। দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরির কারণে সেরা একাদশ মাঠে নামাতেই হিমশিম খাচ্ছেন পেপ গার্দিওলা। আরিয়্যান রোবেন ও ফ্রাংক রিবেরির মতো অপরিহার্য সদস্য ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন।

বায়ার্ন মিউনিখের ইনজুরি সমস্যা আরও রয়েছে। ফুল-ব্যাক ডেভিড আলাবা, ডিফেন্ডার হোলগার বাসতুভারও ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। দলের সেরা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কির মুখে ব্যথার কারণে তার খেলা নিয়েও সংশয় রয়েছে। প্রথম লেগে মুখে মাস্ক পরে খেললেও দ্বিতীয় লেগে তার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে তার জন্য ম্যাচের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন কোচ পেপ গার্দিওলা।

বায়ার্নের জন্য স্বস্তির খবর হলো- দীর্ঘদিনের ইনজুরি কাটিয়ে মেদি বেনাতিয়া ও অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের সাবেক তারকা জাভি মার্টিনেজ দলে ফিরেছেন।

দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সারতে পারেনি বায়ার্ন মিউনিখ। লিগ ম্যাচে অসবার্গের বিপক্ষে ঘরের মাঠেই ১-০ গোলে হেরে যায় ৪ ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ শিরোপা জয় করা গার্দিওলার দল্ খেলায় দলের গোলরক্ষক পেপে রেইনা ১৩ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার বায়ার্নের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি ভালোভাবে সেরে নেয় বার্সেলোনা। দুই দিন আগে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রাখে কাতালানরা। তাছাড়া গত ৭ ম্যাচ প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানো স্প্যানিশ জায়ান্টরা এই সময় ২৫ গোল করলেও কোনো গোল হজম করেনি। এই তথ্যটিই বায়ার্নের জন্য অশনি সংকেত হতে পারে।

মুখোমুখি ফলাফল: বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় এর আগে ৮ বার মুখোমুখি হয়। বার্সার ১ জয়ের বিপরীতে বায়ার্ন জয় পায় ৫টিতে। অন্য দুটি ম্যাচ ড্র হয়। প্রথম লেগে বায়ার্নকে হারিয়ে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলে কাতালানরা। ২০০৯ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জার্মান জায়ান্টদের হারানোর পর গত সপ্তাহে বাভারিয়ানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ২০১২-১৩ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সেলোনাকে ৭-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে উঠে বায়ার্ন। সেই ‘লজ্জজনক’ পরাজয়ের দুর্দান্ত সুযোগ বার্সার সামনে।

টুকিটাকি:

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জেতার পর কোনো দলই পরবর্তী রাউন্ডে যেতে ব্যর্থ হয়নি। ফলে বার্সেলোনাকে পেছনে ফেলে ফাইনালে উঠতে হলে ইতিহাস গড়তে হবে গার্দিওলার দলকে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ ৫ সেমিফাইনালের চারটিতেই জিতে ফাইনালে পা রাখে বায়ার্ন মিউনিখ।

টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে কখনও ছিটকে পড়েনি বায়ার্ন মিউনিখ। তবে এবার সেই হুমকির মুখে রয়েছে বাভারিয়ানরা। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেয়া পেপ গার্দিওলার দল প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে হারার ফলে ছিটকে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

 সম্ভাব্য লাইনআপ:

বার্সেলোনা: মার্ক টার স্টেগান, দানি আলভেজ, জেরার্ড পিকে, হাভিয়ের মাসচেরানো, জর্ডি আলবা, সার্জিও বুসকেটস, ইভান র‌্যাকিটিক, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লুইস সুয়ারেজ, লিওনেল মেসি ও নেইমার।

বায়ার্ন মিউনিখ: ম্যানুয়েল নয়ার, বার্নাট, বেনেতিয়া, জেরেমি বোয়েটাং, রাফিনহা, ফিলিপ লাম, বাস্তিয়ান শোয়েন্সটাইগার, জাভি আলানসো, থিয়াগো আলকানতারা, মারিও গোটশে ও টমাস মুলার।