ভালো খেলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পুরস্কার হিসেবে ২ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বিশ্বকাপে ভাল খেলার জন্য ১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পাকিস্তান ওয়ান-ডে সিরিজ ও টি টোয়েন্টিতে জয় পাওয়ায় আরও ১ কোটি টাকা দিবেন তিনি।

একইসঙ্গে ক্রীড়াঙ্গণের সঙ্গে জড়িত সবার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটারদের গাড়ি দেয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য ভালো আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি।

শনিবার(২৫ এপ্রিল, ২০১৫) গণভবনে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের সময় তিনি এসব ঘোষণা দেন।

বিশ্বকাপে ভালো খেলায় ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দিতে গণভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলায় ক্রিকেটারদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে খেলা খেলেছে তাতে বিশ্ব অবাক হয়ে গেছে। আমাদের টাইগাররা এবার সত্যিকারের একেকটা টাইগারের মতো খেলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এবার প্রত্যেকে আন্তরিকতা নিয়ে খেলেছে। খেলার সময় সবার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আমরা জিতবো। এবার আমি সবার মধ্যে এটা দেখেছি।

আসন্ন খেলাগুলোতে বাংলাদেশ দল জয়ের ধারা অব্যহত রাখবে আশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাকি যে খেলাগুলো আছে সেখানে সবগুলো ভালো টিম। আমাদের এখন থেকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এসব খেলায় আমাদের জিততে হবে। খেলায় হারজিত আছে। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে হবে। ভালো খেলতে হবে।

বাংলাদেশ একদিন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খেলাধুলার অগ্রগতিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলে মেয়েরা স্কুল থেকে যেন খেলাধুলায় আগ্রহী হয় আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি।

পদ্মার পাড়ে একটা স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি সেখানে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলা এবং কক্সবাজারে আরেকটা বড় স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভালো খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ফুলের তোড়া তুলে দেন দলের অধিনায়ক নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে।

এ সময় ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

এর আগে অনুষ্ঠান কক্ষে প্রবেশের করে প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে খেলোযাড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভালো খেলার জন্য তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তার স্ত্রী ও কন্যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

মাশরাফি তার বক্তব্যে সবার কাছে দোয়া চেয়ে আগামীতে আরো ভালো খেলা উপহার দেয়ার আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ বছর আমাদের আরো খেলা আছে। আশা করি আমরা অনেক ভালো খেলবো।

বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করে বিসিবি সভাপতি বলেন, আমরা এখন যে খেলা খেলছি তাতে পৃথিবীর কোন দলই আমাদের সঙ্গে সহজে জিতে যেতে পারবে না।

বাংলাদেশের র‌্যাকিং আরো ওপরে ওঠাতে হবে উল্লেখ করে পাপন বলেন, এটা আমাদের শুরু। আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আগামী বিশ্বকাপের আগে আমাদের র‌্যাকিং আরো ওপরে ওঠাতে হবে। আমরা যেভাবে খেলছি তাদের র‌্যাকিং এ আমরা আরো এগিয়ে যাবো।