ডেভ হোয়াটমোর। বর্তমানে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের কোচও ছিলেন তিনি, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচের ভূমিকায় ছিলেন হোয়াটমোর। এ দেশের ক্রিকেটে উন্নতির শুরু কিন্তু তার হাত ধরেই। মনে রাখার মতো বেশ কিছু স্মৃতি রেখে গেছেন হোয়াটমোর।

২০০৫ সালে তার অধীনে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই বছরই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করতে সক্ষম হন টাইগাররা। ২০০৭ সালে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলেছিল বাংলাদেশ। বর্তমান দলের অন্যতম সেরা চার ক্রিকেটার সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফি তো  হোয়াটমোরের হাতেই তৈরি।

টাইগারদের যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি শাসনও করেছেন হোয়াটমোর। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ার পর সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের উদযাপন না করাই তার বড় প্রমাণ! প্রশ্ন হতে পারে, পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ হোয়াটমোরের জন্য মাশরাফিরা উদযাপন করবেন না কেন? এটা আবার কীভাবে সম্ভব?

ঘটনাটি নয় বছর আগের। বগুড়ায় শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এমন উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন যে, কোচ ডেভ হোয়াটমোর ভীষণ রাগ করেছিলেন। তিনি হয়তো বুঝাতে চেয়েছিলেন, এমন উদযাপন মানায় তাদের, যারা কি না প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছে। বাংলাদেশ তখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছিল। তাই যে কোনো ম্যাচ জিতলেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠা এখন আর টাইগারদের জন্য শোভা পায় না।

গুরুর দেওয়া দীক্ষা থেকে সাকিব-তামিমরা শিক্ষা নিলেন নয় বছর পর! এর আগে হোয়াটমোরের দীক্ষাকে উপেক্ষা করে যে দুটি উদযাপন তারা করেছিলেন, সমালোচিত হয়েছিলেন দুটোতেই।

প্রথমত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর তরুণ ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয় যেভাবে বুনো উল্লাসে মেতেছিলেন, তাতে জয়টা মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতের বিপক্ষে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর মাশরাফিরা বাঁধভাঙ্গা উল্লাস করায় সমালোচিত হয়েছিলেন টাইগাররা। সেই সমালোচকদের দলে ছিলেন পাকিস্তানের বিতর্কিত ক্রিকেটার নাসির জামশেদও। মাশরাফিদের খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে কোনো যুদ্ধে জয় করে ফেলেছে ওরা!’

সিরিজ জেতার পর ওই বিতর্কিত ক্রিকেটারকেও বোধহয় জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেন টাইগাররা। বুঝিয়ে দিলেন, ‘এখন আর বাংলাদেশকে হেলাফেলা করে দেখার সুযোগ নেই। অনেক হয়েছে, এবার মুখ বন্ধ কর।’

এটাও একটা কারণ হতে পারে যে সিরিজের আগে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, ‘এই সিরিজে আমরাই ফেবারিট। নিশ্চয়ই সিরিজ আমরাই জিতব।’ এ কথা শোনার পর তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ হাফিজ। সাকিবের কথার প্রতিবাদ জানান তিনি। উদযাপন না করে টাইগাররা হয়তো ওই হাফিজকে জানান দিলেন, ‘এখন আগের দিন ভুলে যাও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি দু’চোখ খুলে দেখে নাও।’