তামিম ইকবালের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য অর্ধশতকে ভর করে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রবিবার রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচ জিতে ১ম বারের মতো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোন সিরিজ জিতলো টাইগার বাহিনী। পাকিস্তানের দেয়া ২৪০ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে মাঠে নেমেই তামিম ইকবাল একে যেন মামুলি টার্গেটে পরিনত করেন। বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দিয়ে ১০৮ বলে আরও একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। যার ফলে ৭১ বল বাকী থাকতেই ৭ উইকেটের আরেকটি বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে ১১৬ বল খেলে ১১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। এতে ছিল ১৭টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার মার ছিল। বলাই বাহুল্য যে তিনিই আজকের ম্যাচ সেরা। এদিকে মাঠে বসে খেলাটি উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অবশ্য বাংলাদেশ তাদের নিজেদের ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করেছিলেন বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। ৩য় ওভারে জুনায়েদ খানের বলে উঠিয়ে মেরেছেন টানা ৩টি ৪। কিন্তু সে ওভারেরই ৫ম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ১১ বলে সৌম্যর সংগ্রহ ১৭ রান। ১৫তম ওভারে সাঈদ আজমলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন মাহমুদউল্লাহও। তিনিও করেছেন ১৭ রান। এর পর হাল ধরেন গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ও মুশফিক। ৬৯ বলে ৬৫ রান করে যখন মুশফিক বিদায় নেন তখন বাংলাদেশের জয় শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। কারণ তখন দলীয় স্কোর ছিল ২১৮ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। এর পর মাঠে নেমে সাকিব আল হাসান ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান করেছে পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতে সফরকারীদের চেপে ধরেলেও শেষ পর্যন্ত সাদ নাসিম, ওয়াহাব রিয়াজ এবং হারিস সোহেলের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে মোটামুটি একটি সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে সফরকারিরা। আর বাংলাদেশের পক্ষে ১০ ওভারে ৫১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এছাড়া মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি ও নাসির হোসেন ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬ রান যোগ করেন সরফরাজ আহমেদ ও আজহার আলী। ৮ম ওভারে বোলিং করতে এসেই আঘাত হেনেছেন রুবেল হোসেন। ১ম বলেই সরফরাজ আহমেদকে আউট করেছেন এই আলোচিত পেসার। স্লিপে ক্যাচটা দারুণভাবে তালুবন্দী করেছেন সৌম্য সরকার। পরের ওভারে মোহাম্মদ হাফিজকে বোল্ড করেছেন আরাফাত সানি। শূন্য রানে ফিরতে হয়েছে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। ১৬তম ওভারে সাকিব আল হাসানকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়েছেন আজহার। পাকিস্তানের অধিনায়কের অবদান ৩৬ রান।
পরের ওভারেই ফাওয়াদ আলম বোল্ড হয়ে গেছেন নাসির হোসেনের বলে। ২২তম ওভারে আবার পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন সাকিব। এবার বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এলবিডব্লিউ করেন মোহাম্মদ ফাওয়াদকে। ৬ষ্ঠ উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন হারিস সোহেল ও সাদ নাসিম। কিন্তু ৩৯তম ওভারে সোহেলকে আউট করে পাকিস্তানকে আবার অস্বস্তিতে ফেলে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে সপ্তম উইকেটে ৬৬ বলে ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন নাসিম ও ওয়াহাব রিয়াজ।
প্রসঙ্গত ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ১ম ম্যাচে গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার পাকিস্তানকে সহজেই ৭৯ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আগামী ২২ এপ্রিল বুধবার সিরিজের ৩য় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে একই সময় একই ভেন্যুতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড : পাকিস্তান
৫০ ওভারে ২৩৯/৬। ব্যাটিং- আজহার ৩৬, সরফরাজ ৭, হাফিজ ০, হারিস ৪৪, ফাওয়াদ ০, রিজওয়ান ১৩, সাদ ৭৭*, ওয়াহাব ৫১*। বোলিং- সাকিব ২/৫১, মাশরাফি ১/৫২, নাসির ১/১৭, রুবেল ১/২৭, সানি ১/৪১, তাসকিন আহমেদ ০/৫১ ও মাহমুদুল্লাহ ০/৬।

বাংলাদেশ
৩৮.১ ওভারে ২৪০/৩। ব্যাটিং- তামিম ইকবারল ১১৬, সৌম্য সরকার ১৭, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৭, মুশফিকুর রহিম ৮০, সাকিব আল হাসান ৭। বোলিং- জুনাইদ খান ১/৬১, রাহাত আলী ১/৫৭, ওয়াহাব রিয়াজ ০/৩৬, সাঈদ আজমল ১/৪৯, আজহার আলী ০/২০, সাদ নাসিম ০/১৫।