দু-দুজন জীবনবাজি রাখা যোদ্ধার জীবনের সেরা দুই ইনিংস মিলে বাংলাদেশিদের জীবন রাঙিয়ে দিল এমনভাবে যে সারা বাংলাদেশে যেন ঈদের আগেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে।

নিউজিল্যান্ড : ৫০ ওভারে ২৬৫/৮
বাংলাদেশ : ৪৭.২ ওভারে ২৬৮/৫
ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

অনেক খেলায় অনেক সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব। আরো আছে তার বহু ম্যাচ জেতানো কীর্তি।

তবে তিনি নিজে কী মনেকরেন জানি না কিন্তু বাংলাদেশের দর্শকদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া যায় এটা সাকিবের জীবনের সেরা খেলা।

বিশ্বকাপে দু-দুটো সেঞ্চুরি আছে মাহমুদ উল্লাহর। আছে আরো বহু কিছু। তবু বলি, তাঁর জীবনের সেরা ইনিংসও এটাই।

খেলা শেষেও য্রন বিশ্বাস হচ্ছিল না খেলার ফলফল। উদ্দাম উৎসব দেখতে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, আসলেই কি ১২ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিল? ৩৩ রানে ৪ উইকেট! সেখান থেকে ২২৪ রানের জুটি! সাকিব-মাহমুদ উল্লাহর সেঞ্চুরি! এমন কল্পনাকে ছাড়ানো জয়! সত্যি তো, নাকি সব বিভ্রম! ক্রিকেট জীবনের ছবি। বলে সবাই। কিন্তু কখনো কখনো জীবনের বাস্তব ছবিকে ছাড়িয়ে গিয়ে স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি। কালকের দিন, কালকের ম্যাচ যেমন। প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ উঠে দাঁড়িয়ে যেভাবে ম্যাচটা জিতল তারপর সেমিফাইনাল হিসাব, অঙ্ক এসবকে অর্থহীন মনে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া জিতে গেলে এর পরও কাজের কাজটা হবে না, কিন্তু না হলেই বা কী! এই ম্যাচ জেতার তুলনায় সেমিফাইনালকে মনে হচ্ছে তুচ্ছ অঙ্ক। আর খুব সম্ভব সেই অঙ্কও পায়ে লুটাবে আজ। মনে হচ্ছে, এই টুর্নামেন্টে স্বপ্নডানা ভর করেছে বাংলাদেশকে। অনেক দূর নেবে। অনেক দূর!

১২ রানে ৩ উইকেট পড়ে ক্রিকেটে। ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায়। নতুন বলের বিপক্ষের তুখোড় বোলারদের মাথা-মুণ্ডও বোঝা যায় না অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু তার পরও যদি ফিরে আসা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে পৌঁছানো যায় স্বপ্নপুরীতে তাহলে সেটাকে রূপকথা বলে। ক্রিকেট এই রূপকথা কম দেখেনি! আর আমরা সেসব গল্প ইতিহাসের পাতায় পড়েছি নইলে অন্যদের করতে দেখে আফসোসে ভুগেছি। ইতিহাসকে নতুন আলোয় ভরিয়ে দিয়ে, আফসোসকে হাওয়ায় ভাসিয়ে ক্রিকেটীয় রূপকথার নতুন অধ্যায় লিখল বাংলাদেশ। আরো বহু ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে অনেক কীর্তি। কিন্তু সেগুলো সব ছিল নিজেদের অর্জন, কালকেরটা বিশ্ব ক্রিকেটেরই। এমন ম্যাচ, এমন জয় শুধু বাংলাদেশের সমর্থকদের নয়। দুনিয়ার সব ক্রিকেট সমর্থকের এবং ক্রিকেটেরও।