ওয়ানডে সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা হয়েছে বাংলাদেশ দলের। খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে পিছিয়ে থেকেও প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করে টাইগাররা। পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর প্রায় শেষের দিকে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

এ টেস্ট ম্যাচটিকে ‘ফাইনাল’ মানছেন বাংলাদেশ দলপতি। শেষ টেস্টে ভালো খেলে সামনের সিরিজ গুলোতে ভালো একটি মোমেন্টাম তৈরি করে রাখতে চান মুশফিক। যেটা কী না আসন্ন ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও আত্মবিশ্বাসী রাখবে বাংলাদেশকে। সে হিসেবে শেষ ম্যাচটি এক অর্থে ‘ফাইনাল’ই।

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে ফাইনাল ম্যাচ। পাকিস্তান অবশ্যই চেষ্টা করবে জেতার। আমরাও তা-ই করব। চেষ্টা করবো কীভাবে তাদের ২০টি উইকেট তুলে নেয়া যায়। আশা থাকবে পাঁচটা দিন কষ্ট করে যেন খুব ভালো একটা রেজাল্ট আনতে পারি।’

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টেস্ট ক্রিকেটে হারানো ও সিরিজ জয়ের দারুণ এক সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। কারণ, বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সেই সঙ্গে বাকি ক্রিকেটাররাও মুখিয়ে আছেন শেষ টেস্টে দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে।

অন্যদিকে পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস তলানীতে। খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রায় তিন’শ রানের লিড নিয়েও বাংলাদেশকে হারানো যায়নি। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে হতাশাই ঝরেছে পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের কন্ঠে।

তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই হতাশাজনক। প্রায় তিন’শ রানের লিড ছিল আমাদের। পুরো দু’দিন হাতে ছিল। তাও আমরা বাংলাদেশকে অলআউট  করতে পারিনি। মিরপুর টেস্টে ভালো করতে হলে আমাদের পেস বোলিংয়ে উন্নতি করতে হবে।’

দ্বিতীয় টেস্ট  মিরপুরে হওয়ায় কিছুটা আশা দেখছেন মিসবাহ। দ্বিতীয় টেস্টে ভালো ফলাফল আসার পেছনে যুক্তি হিসেবে খুলনা ও মিরপুরের উইকেটের ভিন্নতাকে দেখালেন পাক অধিনায়ক। মিসবাহ বলেন, ‘মিরপুরের উইকেট খুলনার চেয়ে ভিন্ন। এখানে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য সমান সুবিধা থাকবে। উইকেটে পেস ও বাউন্স বেশি থাকবে। যেখান থেকে স্পিনাররাও সুবিধা পাবে। এমনটা হলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই যাবে।’

ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে ছিটকে পড়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। তার জায়গায় বাংলাদেশ দলে নেয়া হয়েছে আবুল হাসান রাজুকে। বুধবার সকালে উইকেট দেখে একাদশ নির্বাচন করবে বাংলাদেশ দল। সেক্ষেত্রে তিনজন পেস বোলার ও একজন স্পিনার অথবা দু’জন পেস বোলারের সঙ্গে একজন বাড়তি স্পিনার দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম।

মঙ্গলবার মিরপুরে কিপিং অনুশীলন করেছেন মুশফিক। বুধবার সকালে ম্যাচের আগে আরেকবার নিজেকে ঝালাই করে নেবেন তিনি। যদি উইকেটের পেছনে মুশফিক নিজেকে ফিট মনে না করেন তাহলে কালকের ম্যাচে অভিষেক হতে পারে লিটন কুমার দাসের।

অন্যদিকে ইনজুরি আক্রান্ত রাহাত আলীর বদলি হিসেবে পাকিস্তান স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন পেসার বিলাওয়াল ভাট্টি। তবে কাল তাকে খেলানো হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, শুভাগত হোম/জুবায়ের হোসেন, শাহাদাত হোসেন, আবুল হাসান ও মোহাম্মদ শহীদ।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ: সামি আসলাম, মোহাম্মদ হাফিজ, আজহার আলি, ইউনিস খান, মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), আসাদ শফিক, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, জুনায়েদ খান, ইয়াসির শাহ, জুলফিকার বাবর।