দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে তামিম ইকবাল। এর আগে এ রেকর্ড রয়েছে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে মুশফিকুর রহিমের। আজ দ্বিশতক করার আগে গতকাল বাংলাদেশী কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ইকবাল টানা তিনটি টেস্টে সেঞ্চুরিরও রেকর্ড গড়েন।

খুলনা টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৮ বল খেলে ২০৬ রানে মোহাম্মদ হাফিজের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল। এর আগে তামিম-ইমরুল জুটি ৩১২ রানের বিশ্বরেকর্ড করেন। এরপরই ১৫০ রানে জুলফিকার বাবরের বলে আউট হন ইমরুল কায়েস।

কায়েসের রেকর্ড করা উদ্বোধনী জুটির পর মুমিনুল দ্রুত বিদায় নিয়েছেন। মাত্র ২১ রান করে আউট হয়েছেন প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহকারী মুমিনুল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ তিন উইকেট হারিয়ে ৪০৫ রান সংগ্রহ করেছে। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।

এ ম্যাচে জয় পাওয়া টাইগারদের জন্য খুবই দুরূহ। কারণ ২৯৬ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে হয়েছে। আর আজ পিচের অবস্থাও ব্যাটসম্যানদের অনকূলে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমনিতেই টেস্টে ৫ম দিন ব্যাট করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে থাকে। এখন সারাদিন ক্রিজে কাটিয়ে দিতে পারলেই হল। আর তামিম যদি ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান তবে সেটি হবে সোনায় সোহাগা। ওপেনার ইমরুল কায়েস আউট হওয়ার পর খুলনা টেস্টে হানা দিয়েছে বৃষ্টি। পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনের প্রথম ঘন্টায় ভালো সূচনা করে ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস। তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জুটি ভাঙেন পাকিস্তানি স্পিনার জুলফিকার বারর। এ জুটির ব্যাট থেকে আসে ৩১২ রান। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে যা যে কোন দলের দ্বিতীয় ইনিংসের উদ্বোধনী জুটির বিশ্বরেকর্ড। ইমরুল কায়েস ১৫০ রানে আউট হন। পরে জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ (৮০) রান সংগ্রহকারী মুমীনুল। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি একটি ছক্কা ২টি চারের সাহায্যে ২১ রান করেন।

এর আগে খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিন পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই টাইগাররা সাফল্যে উদ্ভাসিত। শুক্রবার সকালে মাত্র ৩৪ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট পতন ঘটনায় বোলাররা। আর ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটির রেকর্ড করা দিনে খেলা দেখে মনে হয়েছে তামিম-কায়েসরা টেস্ট নয়, যেন ওয়ানডে খেলেছেন!

উইকেটের চারিদিকে সুইপ, রিভার্স সুইপসহ নানা শৈল্পিক মার মেরেছেন। কী স্পিন, কী পেস, পাকিস্তানের কোন বোলারই পাত্তা পায়নি। দিনশেষে ২৭৩ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন দুই ওপেনার। তবে এখনও টাইগাররা পাকিস্তানের চেয়ে ২৩ রানে পিছিয়ে আছে।

পাঁচ উইকেটে ৫৩৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৬২৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে তাই ২৯৬ রানের লিড পায় সফরকারীরা। তাইজুল শিকার করেন ৬টি উইকেট। ৩৪ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারানো পাকিস্তান ৩০০ রানের লিডও নিতে পারেনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। শতক করেছেন দুজনই।  চতুর্থ দিন শেষে ১৮৫ বলে ১৩টি চার ও চারটি ছক্কায় ১৩৮ রানে করেন তামিম। ১৮৩ বল খেলে ইমরুল করেছে ১৩২ রান । তাঁর চার ১৫টি ও ছক্কা তিনটি। টেস্ট ক্রিকেটে যে কোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি।  এ জুটি মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিমের করা ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে ২৬৭ রানের জুটির রেকর্ড ভেঙেছে। টেস্টে তামিমের এটা টানা তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে সপ্তম শতক। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন টেস্টে শতক করার কৃতিত্ব এখন তাঁর অধিকারে। ইমরুল পেয়েছেন টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুজনেরই এটা প্রথম শতক।