ওয়ানডে এবং টি-২০ তে পাকিস্তান দল প্রায় অপরাজেয় ছিল। সেই পাকিস্তানকে এবার দুই ধরনের ফরম্যটেই মাটিতে নামিয়ে এনেছে মাশরাফি বাহিনী। ওয়ানডে এবং টি-২০ মিশন শেষ। এবার মুশফিক-তামিমদের জন্য টেস্ট মিশন। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে অতিথি দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো না। এখনও টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়শুন্য রয়েছে স্বাগতিকরা। তবে ওয়ানডে এবং টি-২০ ম্যাচে ভালো করায় এবার টেস্ট সিরিজেও ফলাফলেরসম্ভাবনা দেখছেন সাকিব আল হাসান।

আগামী মঙ্গলবার থেকে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুটি দলই বর্তমানে খুলনায় অবস্থান করছে। সকালে অতিথি দলের সদস্যরা অনুশীলনে নামে আবু নাসের স্টেডিয়ামে। আর দুপুরে অনুশীলন করতে আসে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সাকিব।

সরাসরি জয়ের লক্ষ্যের কথা মুখে ফুটে বলতে চাননি দেশসেরা এ ক্রিকেটার। তবে ওয়ানডে এবং টি-২০তে ভালো করায় দারুণ আশাবাদী সাকিব, ‘তবে ওদের (পাকিস্তান) চেয়ে আমরা এগিয়ে রয়েছি বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে। ওয়ানডে সিরিজে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স তাদের টেস্ট সিরিজেও আত্মবিশ্বাস যোগাবে। তাই সেক্ষেত্রে তিনটি বিভাগে সেরাটা দিতে পারলে ফলটা আমাদের পক্ষে আসবে।’

টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট তুলে নিতে হয়। কিন্তু এ জায়গাটাতে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘জানি না পিচ কেমন হবে; এটা নির্ভর করে পিচের উপর। অনেক টেস্ট ম্যাচ আছে ১০ উইকেটও কেউ নিতে পারে না। ২০ উইকেট নেয়াটা নির্ভর করে উইকেট কেমন তার উপর। সেই সঙ্গে আমাদের ভাল বোলিংও করতে হবে। উইকেট কেমন রোল প্লে (ভূমিকা পালন) করবে এটা একটি বড় প্রশ্ন। বোলাররা যদি উইকেটে থেকে কোনো সাহায্য নিতে পারে সেক্ষেত্রে সুযোগ থাকবে ওদের ২০ উইকেট তুলে নেয়ার।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় বাংলাদেশ দল বেশ কিছুদিন হলো টেস্ট ক্রিকেট খেলেনি। অনেক দিন পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে। তার ওপর টেস্ট দলে রয়েছে বেশকিছু নতুন খেলোয়াড়। তারা কি এতো সহজে টেস্ট ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে? কারণ বেশ কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলছে। তার ওপর মাশরাফিরা শেষ ম্যাচ খেললো টি-২০।

ওয়ানডের পর টি-২০ ম্যাচ, এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ম্যাচে কতটা মানিয়ে নেয়া সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশসেরাক্রিকেটার সাকিব বলেন,‘আমিতো বিশ্বাস করি অবশ্যই সম্ভব। দলে কয়েকটা চেঞ্জ আছে। কিছু নতুন খেলোয়াড় দলে এসেছে। দলে যারা ওয়ানডে খেলেছে তাদেরতো একটা বিশ্বাস আছে, অবশ্যই ভাল করা সম্ভব। ওদের বোলিং আক্রমণে যারা আছে বেশিরভাগকেই আমরা খেলেছি। খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। সেই সঙ্গে যারা নতুন এসেছে তাদেরও একটা বিশ্বাস থাকবে এই দলটা ভাল করছে, তাদেরতো অবশ্যই পারফরম্যান্স করার তাড়না অবশ্যই থাকবে। সবদিক থেকেই আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই টেস্টে ভালো করা সম্ভব।’

ওয়ানডে ও টি-২০তে মাশরাফি আর টেস্টে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন মুশফিক। এ দু’জনেরঅধিনায়কত্বের মধ্যে কতটা পার্থক্য- এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমরা কখনো দলের ভেতরে এগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। টেস্ট এক ধরনের খেলা, ওয়ানডে আরেক ধরনের খেলা। এগুলো আসলে তুলনা করার কিছু না। দু’জনই ভাল করছে দলের হয়ে। তাছাড় দু’জনই দলের জয়ের পেছনে অবদান রাখছে। দলের সবার মধ্যেই এই তাড়না থাকে এটা আমার ধারণা। আর এটি একটি ভাল দলের লক্ষণ।’

খুলনা টেস্ট দলের নতুন তিন সদস্যকে নিয়ে দারূণ আশাবাদী সাকিব। টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা সৌম্য সরকার, লিটন দাস ও মোহাম্মদ শহিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘তিনজনই এরই মধ্যে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। আশা করব টেস্টে ম্যাচেও তারা তাতের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে।’