এল ক্লাসিকো বা ধ্রুপদি লড়াই, কথাটি উঠে আসলেই মনের কোণে ভেসে উঠে বার্সা-রিয়ালের ছবি। রোমাঞ্চ আর তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। স্টেডিয়ামে উপস্থিতি দর্শকরা চর্মচক্ষে উপভোগ করে সবুজ গালিচায় ফুটবল শিল্পীদের শৈল্পিক তুলির আচর। আর টিভিতে ছান্দসিক ফুটবল শৈলি দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমী। লা লিগার বদৌলতে প্রতি মৌসুমে দুইবার কাঙ্খিত এল ক্লাসিকো দেখার সুযোগ পায় ভক্ত-সমর্থক-অনুরাগীরা।

তবে মাঝে মধ্যে এর সংখ্যাটা বেড়ে যায় অন্যান্য টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে। কয়েক মৌসুম আগেই একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল-বার্সা। লা লিগায় মুখোমুখি হলেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। সে ক্ষেত্রে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হলেতো সেই মাত্রা আরও কয়েকগুন ছাড়িয়ে যায়। তবে সেটা যদি হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল?

সত্যিই যা হবে মনমুগ্ধকর এক ব্যাপার। এমনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এ পর্যন্ত হয়নি। তবে এবার সেই সম্ভাবনা প্রবল। ইতোমধ্যে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে চার বছর পর ফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে সেমির ফিরতি লেগে বুধবার রাতে জুভেন্টাসের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে জুভেন্টাসের মাঠে ২-১ গোলে হেরে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যেকোন ব্যবধানে জয় পেলেই ফাইনালে উঠে যাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। সঙ্গে সঙ্গে পরম কাঙ্খিত, রুদ্ধশ্বাস আর রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোর ফাইনাল দেখতে পাবে গোটা ফুটবল দুনিয়া।

তাহলেই আগামী ৬ জুন বার্লিনে উত্তেজক লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয দুটি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা। ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে সেই মহারণে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ, বিবিসি বনাম এমএনএসের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। টাচ লাইনে স্নায়যুদ্ধে শামিল হবেন দুই কোচ এনরিক আর আনচেলত্তি। প্রত্যাশিত স্বপ্নের সেই ফাইনাল শেষ পর্যন্ত হবে তো?

বার্সা তার কাজ সেরে রেখেছে। বাকি কাজটা সারতে হবে রিয়ালকে। যদিও জুভেন্টাসের চেয়ে পিছিয়ে ম্যাচ শুরু করতে হবে লস ব্লাংকসদের। তবে গোলের খেলা ফুটবল। প্রতি মুহুর্তে পাল্টায় ম্যাচের রং। হট ফেবারিটরাও হেরে বসে। আবার গোনার বাইরে থাকা দল চলে আসে শিরোনামে। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল আত্ববিশ্বাসী। তবে দীর্ঘ এক যুগ পর ফাইনালে উঠার প্রত্যাশায় মগ্ন জুভ শিবিরও। তবে শেষ পযর্পন্ত রোনালদো-বেল-বেনজামাদের মুখে হাসি থাকলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মহাকাব্যিক এক ফাইনাল দেখারই সুযোগ পাবে গোটা ফুটবল বিশ্ব। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তাই যেন দেখার বিষয়।