জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যা ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। এ সমস্যা বিশ্বকাপের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। এমনকি পাকিস্তান সিরিজেও এ থেকে রক্ষা মেলেনি টাইগারদের।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে তামিম ইকবাল ও তাসকিন আহমেদের ইনজুরি শংকায় পড়ে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। পুরো টুর্নামেন্টে এ দুই ক্রিকেটারের কেউই ছিলেন না শতভাগ ফিট। একই সমস্যায় বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে পড়তে হয় আরেক ডানহাতি ওপেনার এনামুল হক বিজয়কেও। যে কারণে এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজেও নামানো যায়নি পূর্ণ শক্তির দল।

ফিটনেস সমস্যায় ভুগতে থাকা এনামুলের পর ঢাকা টেস্ট ম্যাচের দিন সকালে ইনজুরিতে পড়েন জুবায়ের হোসেন লিখন। আর ঐ ম্যাচের প্রথম ওভারেই ইনজুরিতে পড়া শাহাদাত হোসেন রাজিবতো ক্রিকেটে ফিরতে পারছেন না আগামী ছয় মাসেও।

জাতীয় দলের পূর্নাঙ্গ চিত্রটা আরো ভয়ঙ্কর। ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে যে কোন আঘাতে। সাতটি অস্ত্রপচার নিয়ে এখনো খেলে চলা দেশসেরা এ ডানহাতি পেসার মাঠে হাটেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু ক্যারিয়ার শেষ হওয়ায় নয়, বড় কোন ইনজুরিতে পরলে পঙ্গু হয়েই বাকিটা জীবন পার করতে হতে পারে তার।

এদিকে সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে আঙ্গুলে ব্যথা নিয়েও কিপিং করতে হয়েছে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে। যাতে দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে জুনে ভারত সিরিজের আগে একমাত্র শাহাদাত ছাড়া এনামুল, জুবায়ের, মুশফিক ইনজুরি কাটিয়ে ফিট হয়ে উঠবেন এমনই আশাবাদ বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর।

ক্রিকেটারদের ঘন ঘন ইনজুরি প্রবণতার কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন বেশ কিছু বিষয়। দেবাশীষ জানালেন ক্রিকেটারদের সচেতনতার অভাব ও আত্ম ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের ইনজুরির অন্যতম প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। একটা সময় ছিল যখন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ইনজুরিতে পরলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হত।

বোর্ড তাদের চিকিৎসার পেছনে অর্থ ব্যয়ের চেয়ে, নতুন ক্রিকেটার দিয়ে শূণ্যস্থান পূরণেই বেশি আগ্রহী ছিল। আর জাতীয় দলের বাইরে থেকে ইনজুরিতে পড়লেতো শেষ হয়ে যেত ক্যারিয়ারই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি এ ব্োপারে যথেষ্ট উদার হলেও কমছে না ইনজুরি শংকা।

এ বিষয়টি নিয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সময়ে ইনজুরিতে পরা আর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়াটা সমার্থকই ছিল। তবে এখন বোর্ড এ ব্যাপারে যথেষ্ট দায়িত্বশীল। ১২০ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। তাদের চিকিৎসা ভার বোর্ডই মিটিয়ে থাকে।

তবে পেশাদার ক্রিকেটের এ যুগে আপনি যতই সচেষ্ট থাকুন না কেন, ইনজুরি যে কোন সময়ই আসতে পারে। একটা সময় ছিল যখন আমরা শুধু ঘরোয়া লিগের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আর এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরই এত ম্যাচ থাকে যে ক্রিকেটাররা হাঁপিয়ে ওঠেন। এরপর ঘরোয়া লিগ, আন্তর্জাতিক টি২০ আসরগুলো। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলাটাও আমার মনে হয় অতিরিক্ত ইনজুরির অন্যতম প্রধান কারণ।’

পেস বোলাররা যদি বয়স ভিত্তিক দল থেকে একটু সচেতন হয়। তাহলে তারা ইনজুরি সম্পর্কে কিছুটা সচেতন হতে পারবে। এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান ক্রীড়া চিকিৎসক বলেন, ‘বয়স ভিত্তিক বা স্কুল ক্রিকেট খেলার সময় যদি তাদের ইনজুরি নিয়ে সচেতন করে তোলা যায়; তাহলে জাতীয় দলে আসার পর তারা নিজেরাই নিজেদের ফিট রাখার জন্য সচেষ্ট থাকবে। বিশেষ করে পেসারদের এ ব্যাপারে বেশি সচেতন হতে হবে।’