মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমরা ৫ জানুয়ারি সারাদেশে মহানগর-জেলায় কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি, সেটা হবেই।

আমাদের জেলা নেতারা সেভাবে প্রস্ততি নিচ্ছেন। সব নেতা-কর্মীর সমন্বয়ের একটি সাফল্যমণ্ডিত কর্মসূচি হবে।’ ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ৭ জানুয়ারি সমাবেশও হবে বলে জানান তিনি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুমতি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। প্রশাসনকে আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের অনুষ্ঠান হবে শান্তিপূর্ণ । আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

বিএনপিকে রাজপথে নামতে দেয়া হবে না আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বক্তব্যে জবাবে রিজভী বলেন, রাজপথে নামতে দেয়া হবে না- এটাই তো গণতন্ত্র হত্যার একটা দৃষ্টান্ত। তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারা (ক্ষমতাসীন দল) প্রমাণ করে দিল, তারা গণতন্ত্র হন্তারক।

৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণার জবাবে রিজভী বলেন, ১৫৩জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হলেন। ভোট কেন্দ্রে ভোটারের কোনো পদচারণা ছিলনা। সেই নির্বাচনে উনারা জিতেছেন বলে মনে করেন এবং উল্লাস করবেন বলছেন। বিজয় দিবস পালন করবেন। এতো বড় হাস্যকর ঘটনা কী হতে পারে? যাদের একেবারেই লাজ-লজ্বা নেই তারাই এসব কাজ করতে পারে।

পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের হুশিয়ারি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তার এ বক্তব্য দেশে আওয়ামী লীগের হুমকি সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। তারা দুর্নীতি করে বলেই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। আতঙ্ক থেকেই তাদের মধ্যে হুমকি প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কোন গণতান্ত্রিক সরকার কোন ধরণের সমালোচনাতেই হুমকির আশ্রয় নেয় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন প্রমূখ।