১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের নামে চালানো বর্বরতাকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে।
শনিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণহত্যার সংজ্ঞা তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘে ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর ‘জেনোসাইড’কে কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ীই আমাদের সুযোগ রয়েছে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে। এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা করা হোক। কারণ এই গণহত্যার রূপ যারা দেখেছে তারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের যে প্রস্তাবটি এসেছে তা আমরা সমর্থন করছি এবং সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে অধিবেশন শুরুর পর সংসদে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন সরকারদলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। এরপর প্রস্তাবটির ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাব উত্থাপনে শিরীন আখতার বলেন, বাংলাদেশ হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া কোনো খেলনা নয়। আন্দোলন সংগ্রামের ধারায় এ দেশের জন্ম। তাই ২৫ মার্চ দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করছি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।
প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম,  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমুখ।