বেডরুমের জানালা খুলুন বা রান্নাঘরের খিড়কি, সামনে পারফেক্ট সিনারি। পাহাড়, সবুজ ঘাসের আদিগন্ত তৃণভূমি। হিন্দি সিনেমায় যে সব জায়গায় গানের শ্যুটিং করতে নায়ক-নায়িকারা ছুটে বেড়ান, তেমন একটা জায়গা কল্পনা করুন। আর হবে নাই বা কেন ইউরোপ বলে কথা। সেখানেই যদি ১ ইউরো বা ৭২ টাকায় একখানা আস্ত বাড়ি পাওয়া যায়, কেমন হয়? মিথ্যা ভাবছেন, কিন্তু সত্যি এটাই।
ইতালির সিসিলি, গাংগি, কেরেগা লিগার, পিগমন্ট বা লেকে নি মার্সির মতো জায়গায় বেশ কিছু বাড়ি, কোনওটাকে ছোটখাটো ম্যানরও বলা চলে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭২ টাকায়। ঘোষণা আবার যে কেউ করেননি, করেছেন স্বয়ং মেয়র গুইডো গোত্জানো। তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে অসাধারণ প্রকৃতিক সৌন্দর্য, দূষণ-মুক্ত পরিবেশে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। ‘কিন্তু সত্যিই কি নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন? আর হঠাত্ এমন বদান্যতার কারণটাই বা কী? এই অঞ্চলগুলোর একটু যাকে বলে বদনাম রয়েছে।
কি রকম?
প্রথমত, এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে। এত্না মাউন্টেনের কাছাকাছি বলে এবং উচ্চতা ৫ হাজার ফুটের উপরে, তাই ঠান্ডার সময় বরফ পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। দ্বিতীয়ত, শহুরে সুযোগ-সুবিধা থেকে এই অঞ্চলের বিশেষ একাট সংযোগ নেই। শান্তশিষ্ট জায়গা। একটু বেশিই শান্তশিষ্ট। কারণ নিন্দুকেরা বলেন, এখানে নাকি ভূতের উপদ্রব রয়েছে। আসলে প্রায় ৪০০-৫০০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই অঞ্চল অনেক ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনও জলদস্যুদের আক্রমণে বারবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে এখানকার লোকেরা অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন। মেয়র নিজেই জানাচ্ছেন, প্রায় দু’ দশক আগে ৯ হাজারেরও বেশি লোক এই অঞ্চল থেকে আর্জেন্তিনায় পাড়ি জমিয়েছেন। কেউ বা চলে গিয়েছেন দেশেরই অন্য অঞ্চলে, বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে। ফলে এখানে এমন অনেক বসতি রয়েছে, যা ১৯৭০ সালের পর থেকে দনমানব শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তাই এমন অভিনব অফার দিয়ে লোক টানার প্রয়াস। যাতে এ সব অঞ্চল নতুন করে সেজে ওঠে। তবে আরও একটা শর্ত রয়েছে। বাড়ি কেনার আগে যেটা জানা খুবই প্রয়োজনীয়। মেয়র জানিয়েছেন, বাড়ি তো এক ইউরোতে পাবেন। তবে কেনার পর মেরামতের জন্য ১৮ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা খরচও করতে হবে। যাতে বাড়িগুলি তার পুরনো গৌরব ফিরে পায়।