যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ও স্বনামধন্য ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হিরোজ অব ১৯৭১ গেমের কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গেমের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে তৈরি অ্যান্ড্রয়েড গেম ‘হিরোজ অব ৭১’-এর নতুন সংস্করণ ‘হিরোজ অব ৭১: রিট্যালিয়েশন’ ২০১৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে অবমুক্ত করে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পোর্টব্লিস। বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটারের সহায়তায় এই অ্যাপলিকেশনটি তৈরি করা হয়েছে।
থ্রিডি গ্রাফিক্স এবং অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যুদ্ধকালীন পরিবেশকে তুলে ধরা হয়েছে। ‘হিরোজ অব ৭১ :রিট্যালিয়েশন’-এর কাহিনী শুরু হয়েছে প্রিক্যুয়েল ‘হিরোজ অব ৭১’-এর কাহিনিসূত্রের সাথে মিল রেখে। শামসু বাহিনী বরিশালে শনির চরে একটি পাকিস্তানি ক্যাম্প দখল করে এবং শত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যুদ্ধের শেষে তারা জয়লাভ করলেও দলের সদস্য সজল শহীদ হয়। শামসু বাহিনী সহযোদ্ধার মৃত্যুতে প্রতিশোধের শপথ নেয়। এবার তাদের সামনে নতুন মিশন। শনির চর থেকে কিছু দূরে উল্লার হাটে একটি পাকিস্তানি টর্চার ক্যাম্পে কয়েকজন নারীকে অপহরণ করে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এই বীরাঙ্গনাদের কোনো প্রাণহানি ছাড়া উদ্ধার করে নিয়ে আসাটা এখন শামসু বাহিনীর সামনে চ্যালেঞ্জ। এই টর্চার ক্যাম্পে আক্রমণের সময় তাদের পরিচয় হয় অনিলার সাথে। মেয়েদের নিয়ে একটি গেরিলা গ্রুপ গঠনের সময় অনিলা পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে।
এই গেমটির চ্যালেঞ্জ মূলত যত বেশি সম্ভব পাকিস্তানি সেনা হত্যা করা। এমনকি পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তাকারী দেশীয় রাজাকার, আলবদরদেরও শাস্তি দেয়ার সুযোগ রয়েছে গেমটিতে। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জনগণের মধ্যে সজীব রাখতে চায়। নতুন প্রজন্মের জন্য ভিডিও গেম প্রকাশ করার পাশাপাশি চলতি বছর থেকে ১৯৭১ এর ২৫ মার্চে পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে প্রধান ব্যক্তিদের হত্যার দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বিএনপি সম্পর্কে বলা হয়, সর্বশেষ ২০০১-০৬ সালে ক্ষমতায় আরোহণের আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জামাতে ইসলামির সঙ্গে জোট গঠন করে ডানপন্থী ও ভারতবিরোধী দলটি।
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে যোগ করা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ পুনরায় নির্বাচিত হয় ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করে বেশ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তানি সেনারা বিচারের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। আর অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতোই বাংলাদেশিরা পুরোনো শত্রুর বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল প্রতিশোধ নিচ্ছে। একজন গেমার ইকোনমিস্টকে বলেন, হিরোজ অব ১৯৭১ খেললে মনে হয় আমি আমার দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি।