ল্যাব এইড হাসপাতালের আইসিইউ বাণিজ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬০ বছর বয়সে শ্বাসকষ্ট আর উচ্চরক্তচাপের সমস্যা নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন আব্দুল মোতালিব। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে আইসিউতে নেয়া হয়। সেখানে তিনি কিডনি বিভাগের চিকিৎসক নাবিউল হাসান রানার তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

স্বজনদের দাবি, পরদিন রোগীর অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তারকে বারবার খবর দেয়া হয় কিন্তু ডাক্তার রানা তাকে দেখতে আসেনি। এসময় তিনি অন্য হাসপাতালে অস্ত্রোপাচারে ব্যস্ত ছিলেন।

একজন স্বজন দাবি করেন, রোগীকে দেখার পর ডাক্তাররা প্রথমে তার কিডনিতে সমস্যা নেই বলে জানান। যদিও স্বজনদের তরফে বার বার অভিযোগ করা হয়, যে তাদের রোগীর পেট ফুলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বললেও ৪-৫ দিন পরে এসে এক রাতে, ১১ টার সময় ডাক্তার বলে রোগীকে আইসিউতে নিতে হবে। ক্ষুব্ধ স্বজনের প্রতিক্রিয়া ‘হোয়াট ইস দিস? আমরা টাকা দিচ্ছি কিন্তু আমরা সেবা পাচ্ছি না।’

১মার্চ সকাল ১০ টায় মারা যান আব্দুল মোতালিব। স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তারের অবহেলার কারণেই আব্দুল মোতালিবের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মেয়ে দাবি করেন, ‘আমি বলছি আমার বাবার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।আর বসে বসে সিস্টার উত্তর দেয় কিছু করার নাই। সুস্থ থাকলে আমার বাবা বলত চলো বাসায় যাই কিন্তু এই লোককে কয়েকদিনের মধ্যে মেরে ফেলল। ’

স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, প্রত্যেকটা রোগীকে আইসিউতে নিয়ে যাওয়ার একটা টেন্ডেন্সি এবং টাকা কামানোর একটা মেশিন তৈরি করেছে ল্যাব এইড। আরেকজন অবিলম্বে এই হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানান।

আইসিউ চার্জ ৫০ হাজার টাকা করে এবং তারা ইচ্ছা করে এটা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এক নারী। ১৫ হাজার টাকায় ব্লাড টেস্ট করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নোয়াখালী থেকে আসা এক যুবক। রোগীকে সরাসরি সিসিউতে নিয়ে যেতেও বলেন। ‘মানুষ তো বাঁচার জন্যই হাসপাতালে আসে। ল্যাবএইডের মত হাসপাতালে যদি এরকম হয় তাহলে আমরা যাবো কোথায়’ প্রশ্ন তোলেন একজন নারী।

রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের একটি কক্ষ ভাঙচুর করে এবং স্টাফদের মারধর করেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এই বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ কোন কথা বলতে রাজি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে আরটিভির ওই প্রতিবেদনে।