নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘সত্যকে মিথ্যা দিয়ে আড়াল করা যায় না। খালেদা জিয়া পেট্রোল বোমা দিয়ে যে সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ সেই রাজনীতির নাটকের একটি অংশ।’

শনিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘শিমুল বিশ্বাস ও হাসিনা আহমেদের কথপোকথন থেকেই বেরিয়ে এসেছে সালাহউদ্দিন গুম রহস্য। ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দেশে ফিরিয়ে এনে সালাউদ্দিনকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের বন্দর। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটটি প্রকল্পের মধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দর উল্লেখযোগ্য।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘২০১৮ সালের মধ্যে চার লেন রাস্তা এবং গভীর সমুদ্রে বড় বড় বয়া দিয়ে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য ওঠা-নামার কাজ শুরু করা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পায়রা বন্দরের কার্যক্রম সম্পুর্ণভাবে চালু করার মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রকল্প এলাকায় ছয় হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে পোর্ট টার্মিনাল ও ইপিজেড নির্মাণ করে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কল-কারখানা নির্মাণ করা হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌপরিবহন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীরউত্তম মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মাহবুবুর রহমান, তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, আনোয়ারুল আজিম খান এমপি, অ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম এমপি, রনজিৎ দাস এমপি, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান এম মোজ্জাম্মেল হক, পায়রা সমুদ্র বন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাইদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর হোসেন, কলাপাড়া পৌর মেয়র এসএম রাকিবুল আহসান প্রমুখ।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধি দল পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরে মন্ত্রী প্রতিনিধি দল নিয়ে কোস্টগার্ডের এইচপিবিএন বলেশ্বর ও তেঁতুলিয়া জাহাজযোগে বহিনোঙর রামনাবাদ চ্যানেল পরিদর্শন করেন।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মন্ত্রী শাজাহান খানসহ প্রতিনিধি দল নির্মাণাধীন লাইট হাউস পরিদর্শন শেষে কুয়কাটায় রাত্রীযাপন করবেন বলে জানা গেছে।