বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। দুই মাস কোথায় ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। কিভাবেইবা তিনি শিলংয়ে গিয়ে হাজির হলেন। একটি বিষয় পরিষ্কার। ১০ই মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাড়িতেই ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মানসিক হাসপাতালে মঙ্গলবার অল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকরা বিএনপির এই মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এ সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিষ্কার করেই বলেন, তাকে উত্তরার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। সোমবার চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে নামিয়ে দেয়া হয় শিলংয়ে। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি। এ সময় পুলিশ তাকে আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি। পরে তাকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়, উত্তরা থেকে শিলং প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটারের যাত্রাপথ কিভাবে অতিক্রম করলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। কারাইবা তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে গেল। একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এভাবে অতিক্রম করতে তিনি সক্ষম হলেন কিভাবে। সময় যত গড়াচ্ছে, রহস্য তত বাড়ছে।
গতকাল পরিস্থিতির আর তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। এদিন হাসপাতালে ছিল কড়াকড়ি। সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কাউকেই কথা বলার সুযোগ দেয়নি পুলিশ। আর পুলিশও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে পারেনি। শিলংয়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বিবেক সিয়াম জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিলিজ করে দেয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমেদকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালত যদি আদেশ দেন তবে তাকে পুশব্যাক করা হবে। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিনের বিষয়টি এরই মধ্যে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানানো হয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আমরা এখনও অফিসিয়ালি কাগজপত্র হাতে পাইনি। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন এত দিন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের একটি আইন আছে, আমাদেরও একটি আইন আছে। তাকে ফেরানোর ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা থাকবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সালাহউদ্দিনকে ফেরাতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেয়া হবে। ওদিকে ভিসা না পাওয়ায় গতকালও সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ভারত যেতে পারেননি।
অমিতাভ ভট্টশালীর বর্ণনা: গত সন্ধ্যায় সম্প্রচারিত খবরে বিবিসি বাংলা সরাসরি কথা বলে তাদের সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালীর সঙ্গে। এ সময় অমিতাভ ভট্টশালী জানান, শিলংয়ের যে হাসপাতালে সালাহউদ্দিন আহমেদ চিকিৎসাধীন আছেন, তার কাছে কোন সাংবাদিককে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। তিনি হাসপাতালে যে সেলে ভর্তি আছেন, সেখানে আরও বিচারাধীন ৮ জন বন্দি রয়েছেন। পুলিশ কড়া নির্দেশ দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলা যাবে না। সেখানকার নার্স ও ডাক্তাররাও একই কথা বলেছেন। আগের একটিমাত্র স্থানীয় পত্রিকা সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে। সেটা জানাজানি হওয়ার পর সেখানে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ কিভাবে সেখানে গেছেন তার কাছ থেকে কিছুই জানা যায়নি। পুলিশ তাকে জেরা করতে পারেনি। কারণ তিনি চিকিৎসাধীন। অমিতাভ ভট্টশালী আরও জানান, তিনি কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ তাকে জানিয়েছে, সোমবার সকালে ঘণ্টাখানেক সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তারা কথা বলেছে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় কয়েকজন ব্যক্তি মুখ ঢাকা অবস্থায় তাকে শিলংয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠে ফেলে যায়। সালাহউদ্দিন আহমেদের মুখও ঢাকা ছিল। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সবার দৃষ্টি এড়িয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে তিনি কিভাবে এলেন সেটা এক রকম অবিশ্বাস্য। কয়েকজন প্রাতঃভ্রমণকারী তাদের খবর দেন- এক ব্যক্তি উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরা করছেন। তিনি কয়েকজনকে ওই জায়গাটার নামও জিজ্ঞেস করেন। তখনই তাকে পুলিশ চৌকিতে নিয়ে আসে এবং মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। সে সময় যারা কথা বলেছেন, তারা আমাকে জানিয়েছেন, মোটামুটিভাবে সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিচ্ছন্ন পোশাক-আশাক ছিল। হাতে একটা প্লাস্টিক ব্যাগে আরও একসেট জামা ছিল। কিন্তু কোন টাকা-পয়সা ছিল না। তিনি নিজেই পরিচয় দেন বাংলাদেশের সাবেক একজন মন্ত্রী বলেন এবং তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া মুখঢাকা অবস্থায় ফেলে রাখার কথাটাও জানান। তবে গত দুই মাস তিনি কোথায় ছিলেন, কিভাবে ছিলেন কিংবা শিলংয়ে কিভাবে পৌঁছালেন- সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। তবে কথাবার্তার অসংলগ্নতার কারণে তাকে পুলিশ আটক করে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানকার চিকিসৎকরা জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন। এখন তিনি সিভিল হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের ডি জে গোস্বামীর অধীনে চিকিৎসাধীন। সালাহউদ্দিন আহমেদ চিকিৎসকদের জানিয়েছেন, তার হৃদরোগের পুরনো কিছু সমস্যা আছে। গতকাল তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ডি জে গোস্বামী জানিয়েছেন, তার ইসিজির রিপোর্ট স্বাভাবিক। অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট কাল (বৃহস্পতিবার) পাওয়া যাবে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল। কথাবার্তার অসংলগ্নতার কোন লক্ষণ নেই। পুলিশ এখন কি করবে জানতে চাইলে অমিতাভ বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। চিকিৎসাধীন থাকার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা যায়নি। ওই মামলায় আইনে যা যা আছে তা করা হবে। অন্যান্য অনুপ্রবেশকারীর ক্ষেত্রে যা যা করা হয় তার ক্ষেত্রেও তা-ই করা হবে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে। এর আগে জেরা করা হবে- সেই প্রস্তুতি চলছে।
চোখ বেঁধে রাখা হতো সালাহউদ্দিনকে: শিলং টাইমস পত্রিকার সম্পাদক মানস চৌধুরী লিখেছেন, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কি করে এখানে এলাম কিছুই জানি না। কিছু লোক চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে করে আমাকে এখানে ফেলে গেল। তারা কারা তা-ও জানি না। সালাহউদ্দিন পুলিশকে বলেন, আমাকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। তারা আমাকে বন্দি করে রেখেছিল। যারা আমাকে বন্দি করেছিল, তারা সব সময় চোখ বেঁধে রেখেছে। আমি কিছুই দেখতে পাইনি। তারা একটি গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে আসে। এরপর ফেলে যায়। আমি কোথায় তার কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার কাছে সব অচেনা মনে হচ্ছে।
সরকারের সহযোগিতা চান হাসিনা আহমেদ: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। একই সঙ্গে দ্রুত স্বামীর কাছে যেতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল দুপুরে গুলশানের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার যথাযথ প্রক্রিয়া আমার জানা নেই। আমি আগে তার কাছে যেতে চাই। তারপর দেখবো দেশে ফিরিয়ে আনতে কি করণীয় আছে। তখন বিএনপি ও সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিনকে মেঘালয় পুলিশ আটকের বিষয় ও আইনি আনতে জটিলতার বিষয় জানতে চাইলে হাসিনা আহমেদ বলেন, আমরা ভারতে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা সব সময় কামনা করছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। ভারতের ভিসা পেলেই যত দ্রুত সম্ভব শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা হতে চান বলে জানান তিনি। সাবেক এই এমপি বলেন, ভিসা পেতে ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। ভিসার আবেদনপত্রে সড়ক ও আকাশপথে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। যে পথ সুবিধাজনক হবে, সে পথেই তারা যাবেন। তবে হাসপাতাল পরিবর্তন হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান তিনি। হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এজন্য দেশবাসীসহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের ভিসার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। হাসিনা আহমেদ, তার ভগ্নিপতি মাহবুবুল করিমসহ চারজনের নামে ভিসার আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনি সহায়তা দেবেন জয়নাল আবেদিন: নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ভারতের মেঘালয়ে সন্ধান পাওয়া যায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সালাহউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে মামলায় আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য তার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। হাসিনা আহমেদ মেঘালয়ে পৌঁছার পর তার মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবেন জয়নাল আবেদিন।
হঠাৎ অসুস্থ হাসিনা আহমেদ: এদিকে গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর পরই হঠাৎ অসুস্থবোধ করছেন হাসিনা আহমেদ। এরপর দ্রুত তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকালে বাসায় ফেরেন। এ সময় হাসিনা আহমেদ বলেন, হঠাৎ শ্বাসকষ্টটা একটু বেড়ে গিয়েছিল। তাই হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার ওষুধপত্র ও কয়েকটা টেস্ট দিয়েছেন। ওষুধগুলো খাচ্ছি এবং এখন একটু সুস্থ বোধ করছি।
‘সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে’ ভারতের মেঘালয়ে উদ্ধার হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর গ্রেপ্তার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এই দুই মাস তিনি কোথায় ছিলেন আর কিভাবেই বা মেঘালয়ে গিয়েছিলেন এসব জানতেও পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাকে। তবে অপর একটি সূত্র বলছে, সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। বরং অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালতের রায়ে সেখানকার জেলে গেলেই সরকারের জন্য ভালো। দণ্ড শেষে তাকে পুশব্যাক করা হলে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ইতিমধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মেঘালয়ে সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট আইনে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। সেক্ষেত্রে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি বলেন, ‘সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ তুলে নিয়ে যায়নি। র‌্যাব বা পুলিশের কাছে সালাহউদ্দিন আছে বিএনপির এমন অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব নিজেই আত্মগোপন করে ছিলেন এবং সবসময় স্থান পরিবর্তন করেছেন।’ পুলিশ সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিনের বিষয়টি নিয়ে গতকাল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। সেখানে সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হতে পারে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর তিনি কিভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন সেই রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে। সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যোগাযোগ করে বিশেষভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সেটা করা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার তা করলেও প্রথমে নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটন করতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হবে।
এদিকে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম সাংবাদিকদের বলেছেন, আদালত যদি নির্দেশনা দেয় তাহলে দ্রুত তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে। পুরোটাই নির্ভর করবে আদালতের নির্দেশনার ওপর। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তারা বিষয়টি ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন ও কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনেও জানিয়েছেন।