সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থী আ জ ম নাছির সমর্থন নিতে ব্যয় করেছেন ২ কোটি টাকা। তবে ঢাকা দক্ষিণে সরকার দলীয় প্রার্থী আনিসুল হকের ক্ষেত্রে এ ধরনের লেনদেনের প্রমাণ মেলেনি। কাউন্সিলর পদে সমর্থন পেতেও ২ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে টিআইবির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৫: প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনটি সিটিতেই নির্বাচন কমিশনের দেয়া ব্যয়সীমার ১৪ থেকে ২১ গুণ পর্যন্ত বেশি ব্যয় করেছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০ লাখ টাকার ব্যয়সীমার বিপরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যয় করেছেন ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সেখানে বিএনপি প্রার্থী ব্যয় করেছেন ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী ৩৭ লাখ টাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়সীমার বিপরীতে সরকার দলীয় প্রার্থী ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। বিএনপির প্রার্থী ১ কোটি ৬৪ লাখ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়সীমার বিপরীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ২০ লাখ ব্যয় করেছেন।

এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ৩ সিটিতে ৬ লাখ টাকার ব্যয়সীমার বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ব্যয় করেছেন ২৪ লাখ টাকা করে। আর বিএনপির প্রার্থীরা ব্যয় করেছেন গড়ে ৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি নির্বাচন দল নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও এ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে প্রার্থীদের। এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। সেখানে মেয়র পদে দলীয় সমর্থনে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। আর কাউন্সিলর পদে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়রদের দলীয় সমর্থনে টাকা লেনদেনের প্রমাণ না পাওয়া গেলেও সাধারণ কাউন্সিলরা ১ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন সমর্থন পেতে। আর সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের ব্যয় করতে হয়েছে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে এই অবৈধ অর্থ প্রদানে প্রার্থী নিজে ছাড়াও অর্থদাতা হিসেবে স্থানীয় ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একাংশ জড়িত ছিলেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকার দুই সিটি করপোশনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি পাঠ করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইতেখারুজ্জামান পরিচালানায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা।