লাবণ্যর পরিচিতি বেড়েছে, বেড়েছে শঙ্কাও

0
217

যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করেন, ছিনতাই করেন, শিশুদের জিম্মি করে অভিভাবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বাগিয়ে নেন-এমন আরও নানা অভিযোগ হিজড়াদের বিরুদ্ধে। লাবণ্যর সাহস এসব ধারণায় চিড় ধরিয়েছে। তাঁর কাজে গর্বিত হিজড়া সমাজ। অনেকেই নতুন করে ভাবছেন হিজড়াদের নিয়ে।
লাবণ্য হিজড়ার গল্প এখন সবার জানা। ৩০ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ি দীপিকার মোড়‌ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তরুণ ব্লগার ওয়াশিকুরকে। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় লাবণ্যই দুই হাত দিয়ে তাঁদের আটকান। তুলে দেন পুলিশের হাতে।
এ ঘটনা বেশ আলোচিত হয়। খুন করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন একজন হিজড়া-কম সাহসের কথা নয়! সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়।

বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ১৯৯৬ সাল থেকে হিজড়াসহ যৌন সংখ্যালঘুদের স্বাস্থ্য সেবা ও অধিকার আদায়ে কাজ করছে। এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এত দিন ধরে কাজ করছি। বলতে গেলে লাবণ্য যে সাহস দেখিয়েছে ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, এর আগে হিজড়াদের পক্ষ থেকে কেউ তা করেনি। এতে আমাদেরও কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। লাবণ্য বুঝে বা না বুঝে যে কাজটি করেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ তএটাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে পারে। ভারতে হিজড়াদের ট্রাফিক সিগন্যালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও হিজড়াদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর কাজে লাগানো যেতে পারে।’

এই ঘটনায় লাবণ্যর পরিচিতি বেড়েছে। বেড়েছে শঙ্কাও। অন্য হিজড়ার সঙ্গে লাবণ্যও বাজারে বাজারে ঘুরে টাকা তোলেন। এটিই তাঁদের জীবিকা। তাঁদের ভয়, ওয়াশিকুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ যদি লাবণ্যকে চিনে ফেলে? তখন কে দেবে নিরাপত্তা?

তাঁর ‘গুরুমা’ স্বপ্না হিজড়ার বলেন, ‘লাবণ্য যে কাজ করেছে, তাতে আমরা গর্বিত। তবে একইসঙ্গে আমাদের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? ’

পুলিশ প্রশাসন থেকে কেউ এখন পর্যন্ত লাবণ্যর খোঁজ করেনি বা কোনো ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করেনি বলে জানান লাবণ্যর ‘গুরুমা’ স্বপ্না।