বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমারে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীবাহী নৌকাটি আটকের আগেই সেখান থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সরিয়ে নেওয়া হয়। নৌকায় অবস্থান করা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পেয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

গত সপ্তাহে সমুদ্র থেকে বিদেশগামীবাহী একটি নৌকা আটক করে মিয়ানমার। নৌকাটিতে ২০০ বাংলাদেশী রয়েছে বলে জানায় তারা। নিজেদের দাবি করা ওই বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। নৌকাটিতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরাও ছিল। নৌকারোহী আট রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়ে রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এরপর আরও নৌকারোহীর সাক্ষাৎকার নিতে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে যায় রয়টার্সের সাংবাদিকরা। ওই নৌকারোহীরা জানান, নৌকাটিতে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ রোহিঙ্গা ছিল। নৌকাটি আটক করার আগেই এদের সরিয়ে নেয় মানবপাচারকারীরা। রোহিঙ্গা নারী আরাফা (২৭) বলেন, সব রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নৌকাটিতে শুধু বাংলাদেশীরাই রয়ে যায়।’ তিনি জানান, পাঁচ সন্তানসহ তিনিও ওই নৌকায় ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার নৌকাটি আটক হওয়ার পর সন্তানসহ তিনি থেক কে পিন গ্রামে ফিরে আসেন।
আরাফা নামে পরিচয়দানকারী ওই নারীর বক্তব্যের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভিত্তিক ফর্টিফাই মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথের সঙ্গে আলোচনা করেন। স্মিথ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের বিবৃতি অনুযায়ী মানবপাচারের সঙ্গে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও জড়িত। তারা এর লভ্যাংশ পায়। তবে মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে আটক হওয়া নৌকাটিতে রোহিঙ্গা মুসলিম ছিল— রয়টার্সের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা জ হ্তু বলেন, ওই নৌকায় ২০০ বাংলাদেশী ও ৮ ‘বাঙালি’ ছাড়া অন্য কেউ ছিল কি না এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া নৌকা থেকে আগেই কাউকে সরানো হয়েছে কি না এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
মিয়ানমারে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম থাকলেও তাদের দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না সরকার। হাজার বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার চালায় উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। এ নির্যাতনে সরকারেরও জড়িতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে এমনই এক দাঙ্গায় হাজারো রোহিঙ্গা নিহত ও প্রায় দেড় লাখ গৃহহীন হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অব্যাহত অত্যাচার বন্ধে আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দেশটির সরকার সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সরকারের অত্যাচারের কারণেই ওই রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দেশান্তরী হয়েছে। মিয়ানমার সরকার চাচ্ছে না জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাচারের শিকার রোহিঙ্গারা সাগরে ভাসছে এ ধরনের খবর বেশি প্রকাশিত হোক। এ কারণেই তারা কৌশলে নৌকা থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে শুধু বাংলাদেশীদের দেখানোর চেষ্টা করছে।