সাভারে ধসে পড়া ‘রানা প্লাজা’র মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় বুধবার দুপুরে নন-সাবমিশন মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। এর আগে গত সোমবার রানার বিরুদ্ধে ‘নন-সাবমিশন’ মামলার অনুমোদন দেন দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।

দুদক সূত্র জানায়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের মাধ্যমে চলতি বছরের ২ এপ্রিল অভিযুক্ত সোহেল রানা সম্পদ বিবরণীর নোটিশ গ্রহণ করেন। যদিও সোহেল রানা নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে তার স্ত্রীর মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। এ আবেদন কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

 দুদক সূত্র জানা গেছে, রানা প্লাজা ধসের পর পরই সোহেল রানার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয় কমিশন। অভিযোগ অনুসন্ধানে ২৮ এপ্রিল দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।
৩০ এপ্রিল কমিশনের অনুসন্ধান টিম ঢাকার সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। ওই বছরের ১৫ মে অনুসন্ধান টিম সোহেল রানার সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সুপারিশ করে। তবে সোহেল রানা কারাগারে থাকায় সৃষ্ট আইনি জটিলতায় টানা দুই বছর পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজায় ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২৯ এপ্রিল সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এদিকে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল প্রায় ১৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

 ভবন ধস ও এক হাজার ১৭৫ জন পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর পেছনে রানার প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।