রাজনীতি ছাড়ছেন নেতারা!

0
93

একের পর এক মামলা ও হয়রানির কারণে রাজশাহীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সরকার পতনের আন্দোলনে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় চরম আকার ধারণ করেছে এ হতাশা। এসব নানান কারণে দল তথা রাজনীতি থেকে পিঠটান দিতে চাইছেন অনেক নেতাকর্মী।

দীর্ঘদিন ধরেই দলের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না অনেক নেতা। রাস্তায় আন্দোলন তো দূরের কথা এমনকি খোলাভাবে ঘুরতেও পারছেন না নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি রাজশাহীর শীর্ষ তিন নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সদ্য বরখাস্ত হওয়া মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন তিন মাসের বেশি সময় ধরে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। দিনে দিনে এ হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে নেতাকর্মীদের মনে। তাই তাদের অনেকেই রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৮ মে রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিলের দাবিতে মহানগর বিএনপির অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। জেলা বিএনপির দুই থেকে তিন জন স্বল্প পরিচিত নেতা কোনোমতে সংবাদ সম্মেলন করে স্থান ত্যাগ করেন।

এ পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম থানা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ‘যে দলের নেতারা নিজেদের গা বাঁচাতে ব্যস্ত, কর্মীদের কোনো খোঁজ নেয় না, সে দল না করাই ভালো।’ এ কারণে দলের কোনো কার্যক্রমে তিনি আর যোগ দেন না। আগামী দিনে পরিবারকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান ছাত্রদলের ওই নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এতো মামলার বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরতে আর ভালো লাগছে না। রাজনীতি যেখানে পরিষ্কার নয়, সেখানে পরিষ্কারভাবে টিকে থাকাই একটি চ্যালেঞ্জ। সবার ওপরে পরিবার নিয়েও ভাবতে হবে।’ তিনিও রাজনীতির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে মামলার জাল থেকে বের হওয়ার চিন্তায় ব্যস্ত।

দীর্ঘদিন ধরে মামলায় জড়ানোর কারণে বিএনপির নেতাদের পরিবারেও দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। পরিবারের চাপেও অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি ছাড়তে চাইছেন। কেউ মামলা আবার কেউবা পরিবারের দোহায় দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছেন।

মহানগর যুবদলের এক নেতা বলেন, ‘রাজনীতিতে থেকে যে পরিমাণে হয়রানি পোহাতে হয় তাতে আমার পরিবার আমার ওপর রীতিমতো বিরক্ত। সে কারণে পরিবারের সদস্যরাও চায় না রাজনীতিতে থাকি। পরিবারে শান্তি বজায় রাখতেই রাজনীতি থেকে সরে আসতে হচ্ছে।’

এদিকে, সোমবার রাজনীতি ছেড়ে দিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. মইনুল হোসেন চৌধুরী শান্ত। দুপুরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। গত ৫ জানুয়ারির আগে থেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি।

জানতে চাইলে শাহ মো. মইনুল হোসেন চৌধুরী শান্ত বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাচ্ছি না। এছাড়া আমি আর ছাত্রও নই। এ কারণে ছাত্রদলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। তাছাড়া পরিবার থেকেও রাজনীতি ছেড়ে দিতে চাপ ছিল।’