রাজধানীতে ঝুকিপূর্ণ বিলবোর্ড বেড়ে গেছে। ডিসিসির অনুমতি না নিয়েই যত্রতত্র বিলবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঝুকিপূর্ণভাবে অর্ধশত  বিলবোর্ড বসিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর দুইপাশে যত্রতত্র স্থাপন করা এসব বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার এই বর্ষা মৌসুমে ঘাতক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব বিলবোর্ড লাগানোর কারণে একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে নির্মাণে ত্রুটির কারণে কখনো নিজস্ব ভারে ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটছে। তারপরও উদাসীন ঢাকা সিটি করপোরেশন।
রাজধানীতে ছোট-বড় ১০ হাজারের বেশি বিলবোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন রয়েছে মাত্র হাজারখানেকের। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগে সর্বশেষ হিসাবে রাজধানীতে বিলবোর্ডের বৈধ সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৯৩টি। অপরদিকে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যে কোন  ধরনের সরকারি/বেসরকারি জায়গায় বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপন বোর্ড অথবা সাইনবোর্ড স্থাপন করার জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। এরপর স্থাপিত বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপন বোর্ডের বিপরীতে প্রতি বছর করপোরেশনকে নির্ধারিত হারে ফি দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু শতকরা ৮০-৯০ ভাগ বিলবোর্ডই অবৈধ হওয়ায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। লাভবান হচ্ছে শক্তিশালী একটি চক্র। দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বনানীর মোড়ে পশ্চিমপাশে সারি বেঁধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিলবোর্ড। চারপাশে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি, হরেক রকম পণ্যের মনকাড়া বিজ্ঞাপন দেয়া দু’শতাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। এছাড়া মিরপুর ১১ নম্বর থেকে শুরু করে ফার্মগেট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত অন্তত দেড় হাজার বিলবোর্ড রয়েছে। অপরদিকে শাহবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত অন্তত আরো হাজার দুয়েক বিলবোর্ড রয়েছে, যার অধিকাংশই সড়কের ফুটপাতের উপর। এসব বিলবোর্ডে একটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন সময় এসব বিলবোর্ড দুর্ঘটনা কারণ হতে পারে। এর বাইরে রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে বারিধারা-বনানী সড়কে কয়েকশ ঝুকিপূর্ণ বিলবোর্ড রয়েছে। এখানে সড়কের দুইপাশে বড় মাপের ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ডগুলো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্মাণ করা হয়েছে। বিলবোর্ডগুলো যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে পড়ে জান-মালের ক্ষতি ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো বিদ্যুত্ খুঁটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হতে পারে। ব্যাপারটি নজরে আনতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি একটি সংস্থা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে রাস্তা ও বিভিন্ন ভবনের উপর তিন হাজারের মত বিল বোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার বিলবোর্ড অনুমোদন দিয়েছে ডিসিসি। এছাছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে আরো একহাজার বিলবোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। তবে একেবারই হাজারখানেক বিলবোর্ড বৈআইনিভাবে স্থাপন করা হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখের আগেই এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদের অভিযান চালাবে উত্তর সিটি করপোরেশন।