আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো ঢিলেঢালা। ঘটনার সময় রহস্যজনকভাবে বন্ধ ছিলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা(সিসি ক্যামেরা)। তদন্তের দ্বিতীয় দিনের মাথায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে হোচঁট খেতে হয় তদন্তকারী দলকে।

ঘটনার সময় ডাকাতদলের কোন সদস্য মুখোশ ব্যবহার না করায় স্বভাবতই সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ওপর নির্ভর করছিলেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তে নেমেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হতাশ তদন্তকারী সংস্থাটি।

আশুলিয়া থানার ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক।

ঘটনার পরপরই ব্যাংকের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ ছুটে যান ব্যাংকের শাখাটিতে। বিধ্বস্ত বিমানের ব্লাক বক্সের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় তারা ভল্টের আগে প্রথমে ছুটে যান সিসি ক্যামেরার সার্ভার কক্ষে। সেখান থেকে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হতাশ হন তারা।

রহস্যজনকভাবে ঘটনার সময়কার ভিডিওফুটেজ না থাকার বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চলতে থাকে নিজেদের মধ্যে।

ইতোমধ্যে মঙ্গলবার বিকেলেই পুলিশের তদন্ত দলটি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ঘটনার সময়কার ভিডিওফুটেজ না থাকার বিষয়টিও অবগত করেননি ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

মামলাটির ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবির পরিদর্শক মীর শাহিন শাহ পারভেজ বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি সন্দেহজনক।

আমাদের লক্ষ্য ছিলো সিসি ক্যামেরার ভিডিওফুটেজ দেখে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি ও কার কি ভূমিকা ছিলো তার স্বাক্ষ্য প্রমাণ পাবো। কিন্তু এখন দেখছি ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজই নেই।

এ ঘটনায় ব্যাংকটির অভ্যন্তরের কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্বাপর সব ঘটনা খতিয়ে দেখছি, ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ফোনালাপ পর্যালোচনা করছি, কোনকিছুই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না’ যোগ করেন ডিবির ওসি।

ঢাকার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ডিজিটাল জমানায় ভিডিও ফুটেজ দিয়েই অনেক অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইন ও বিচারের আওতায় আনা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই ডাকাত জীবিত অবস্থায় ধরা পড়া ও তাদের সূত্র ধরে অন্যদের সনাক্ত করার মধ্যে দিয়ে তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থাকলে খুবই ভালো হতো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা খতিয়ে দেখছি, জানতে চেয়েছি-ঘটনার সময়কার সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার কারণ। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা সরবরাহকারীকেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, ব্যাংকটির কর্মকর্তারাও নিজেদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেননি’- যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আমরাও স্তম্ভিত। এতবড় ঘটনা ঘটলো অথচ ঘটনার সময়কার ফুটেজ নেই সিসি ক্যামেরায়! এটা মেনে নেয়া যায় না।