বুধবার তার স্ত্রী মাহমুদা মেহাজাবিন ও ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

মাহমুদা মেহাজাবিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে অন্য দিনের মতো খাওয়া-দাওয়া করে ব্যাংকে গিয়েছিলেন তার স্বামী।

দুপুরে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসইও) পদে পদোন্নতির সেই চিঠি হাতে পেয়ে ফোন করে স্ত্রীকে সুখবর জানান অলিউল্লাহ।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর লাশ দেখতে পান মাহমুদা।

মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগে অলিউল্লাহ পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসইও) হয়েছিলেন বলে জানান ব্যাংকটির এন্টি মানি লন্ডারিং বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবুল হোসেন।

বুধবার বিকালে অলিউল্লাহর লাশ জামালপুর সদর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, সন্ধ্যায় তাকে সেখানে দাফন করা হয় বলে অলিউল্লাহর বড়ভাই নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন।

শরিফপুর ইউনিয়নের অনন্তবাড়ি গ্রামের মৃত ওয়াসিম উদ্দীন কাজীর ছেলে অলিউল্লাহ জনতা ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। পাঁচ বছর আগে তিনি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডে যোগ দেন।

অলিউল্লাহ ৯ বছর আগে একই গ্রামে বিয়ে করেন। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

এদিকে বুধবার কাঠগড়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাংকটির প্রধান ফটকে বুধবারও তালা ঝুলছে। পাশেই নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশের একাধিক দল।

ব্যাংকের ভেতরে উঁকি দিতেই দেখা গেছে রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফ্লোরে। ওই এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সবার চোখে মুখে শোক আর আতঙ্কের ছাপ।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে ডাকাতরা হানা দেয়। তাদের গুলি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে সাতজন মারা যান।

জনতার ধাওয়ার মুখে সন্দেহভাজন ডাকাতদের দুজন মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গেলে গণপিটুনিতে নিহত হন তাদের একজন।

নিহত আটজনের মধ্যে সাতজনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে বুধবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ডাকাতের (অজ্ঞাত পরিচয়) লাশ মর্গে রয়েছে।