মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে দেয়া আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ রায়ে রোববার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

২০১১ সালে কারাগার ভেঙে বন্দি ছিনতাইয়ের মামলায় মুরসিসহ ১০৬ জনকে শনিবার মৃত্যুদণ্ড দেয় মিশরের আদালত। রায়ের পরপরই এ দণ্ডাদেশের নিন্দা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। তাদের নিন্দার একদিন পর এ সমালোচনা করলো যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে মিশরের ‍আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই গণবিচার ও গণদণ্ডের চর্চার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিশরের দায় ও তাদের আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাবিরোধী।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্বেগকে লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করছেন তারা। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবেদল ফাত্তাহ আল-সিসির সরকারের সময়ে আদালতের এ দণ্ডাদেশে উদ্বেগ জানানো যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণেরও বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।

‍তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী যখন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে, তখন তার তাৎক্ষণিক নিন্দা জানালেও সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।