প্রায় দুই যুগ আগে অবিভক্ত ঢাকার মেয়র মনোনীত হয়ে মাত্র বছর দেড়েকেই মিস্টার ২০% নামে পরিচিতি হয়ে ওঠেন তিনি। আর ওই ২০%-এর ক্যারিশমাতেই নিতান্ত সাধারণ রাজনীতিক থেকে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে বনে যান বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক।

মির্জা আব্বাস সেবার মেয়র মনোনীত হন খালেদা জিয়ার কৃপায়। নির্বাচন ছাড়াই তাকে মেয়রের গদিতে বসিয়ে দেন তৎকালীন এই প্রধানমন্ত্রী।  ১৯৯১ সালের ১৯ মে থেকে শুরু করে ১৯৯৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে সব কাজেই ভাগ বসাতে থাকেন বাইরে থেকে উড়ে এসে ঢাকায় জুড়ে বসা আব্বাস।

বিশেষ করে কোনো উন্নয়নকাজ আর ঠিকাদারির দরপত্র পেতে মির্জা আব্বাসের বখরা নিশ্চিত করতে হতো সবার আগে। কার্যত আব্বাসকে এই কমিশন দেওয়‍াই হয়ে উঠেছিলো ঠিকাদারির দরপত্র পাওয়ার প্রধানতম শর্ত।

মেয়র মনোনীত হয়ে শুরুতে অল্প অল্প কমিশন নিতে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে তার কমিশনের মাত্রা। শিগগিরই এই হার দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। স্বভাবতই তার নাম হয়ে যায় ‘মিস্টার টুয়েন্টি পারসেন্ট’।

অবশ্য এমন অভিনব তকমাতেও কখনো বিব্রত হতে দেখা যায়নি মির্জা আব্বাসকে। বরং ক্ষমতার দাপটে বিষয়টি বেশ উপভোগই করছিলেন তিনি। দিন দিন বিত্ত-বৈভব  ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে আর ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করতে থাকেন আব্বাস।

ছিলেন সাধারণের চেয়েও সাধারণ একজন মানুষ; আর তিনিই রাতারাতি হয়ে ওঠেন অগাধ সম্পদের মালিক। তার যতো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, কাঁচা টাকা-কড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স অধিকাংশেরই মালিক হন তিনি ঢাকার মেয়র হয়ে। এমনকি ব্যাংকের মালিকানাও চলে আসে তার পকেটে।

এরপর এমন খাই খাই ভাবের কারণেই সিটি নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।

পরে খালেদা জিয়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন মির্জা আব্বাসকে। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক। দুই যুগ আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে যে হানিফের সঙ্গে হেরে যান তিনি, সেই হানিফেরই ছেলে সাঈদ খোকন এবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মূল প্রতিপক্ষ আব্বাসের।