বাংলাদেশে সরকারের কৃষিমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মতিয়া চৌধুরী বলেছেন সমুদ্র পথে মানব পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন , “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সবকিছুতে সফল এ কথা কোন সরকার বা দেশ কখন দাবি করবেনা।”

শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে মতিয়া চৌধুরী বলেন মানবপাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শতভাগ সফল না হলেও তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া হচ্ছে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন মানবপাচার নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলেই পাচারকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘এনকাউন্টারের’ মতো ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার টেকনাফে সন্দেহভাজন তিনজন মানব পাচারকারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হবার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “(সরকার) উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টারটা হল কেন? যে তিনজন মারা গেছে, এটা কি এমনি এমনি মারা গেছে? এনকাউন্টারে মারা গেছে। যারা পাচার করছিল তাদের সঙ্গে এনকাউন্টার হয়েছে বলেই মারা গেছে।”

মানবপাচারের জন্য দালালরা সমুদ্রপথকে বেছে নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে মতিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন বিস্তীর্ণ সমুদ্র নজরদারীর বিষয়টি কঠিন ব্যাপার।

তিনি বলেন , “ এই সমুদ্রে ফিশিং ট্রলার কোনটা আর মানুষ যাচ্ছে কোনটায় এগুলো আলাদা করা খুব কঠিন। তবে সরকার এ্যাকটিভ (সক্রিয়)।”

বার্মা থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সে দেশে ফেরত যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে মানবপাচারের ঘটনা বেড়ে যাবার পেছনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ একটি বড় বিষয়।

সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তে বন্দীশিবির আর গণকবরের সন্ধান পাবার সাথে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মানুষের পাচার হবার করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে একজন দর্শক প্রশ্ন তোলেন যে সরকার এটা বন্ধ করতে পারছে না কেন? অনুষ্ঠানে আরও একজন দর্শক প্রশ্ন তোলেন যে সীমান্তরক্ষী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কি এ বিষয়ে কোন দায় নেই?

অনুষ্ঠানের আরেকজন আলোচক বিএনপি নেতা লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জন্যই মানব পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন , “আমরা কোস্টগার্ড করেছি। তাঁদের যথেষ্ট জনবল আছে, এ দায়িত্ব তাঁদের। পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি এখানে যারা আইনশৃঙ্খলায় বা দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাঁদের গাফেলতি আছে।”

সূত্রঃ bbc