নয়াদিল্লিঃ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলা তাপপ্রবাহের কারণে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ ছাড়িয়ে গেল৷ সবথেকে বেশি প্রাণহানির খবর এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু থেকে৷ সংখ্যাটা ৩৬৮! আর ওডিশায় এখনও পর্যন্ত সান স্ট্রোকে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আবহবিদরা জানিয়েছেন, অন্ধ্র-তেলেঙ্গানায় গরমের এই দাপট সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে৷ কিন্তু দিল্লি, হরিয়ানা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার মতো রাজ্যগুলিতে তা আরও অন্তত দিন চারেক ভোগাবে৷

সরকারি সূত্রের খবর, অন্ধপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় যথাক্রমে ৮৭ ও ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ দুই রাজ্যের যথাক্রমে প্রকাশম এবং নালগোন্দা জেলায় মৃতের সংখ্যা সবথেকে বেশি- ৫৭ ও ৫৫৷ অন্য দিকে, অসহ্য গরমে কাতরাচ্ছে দিল্লিও৷ রবিবার সেখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ গত কয়েকদিন ধরেই পারদ ৪৩-এর নীচে নামছে না৷

মৌসম ভবনের আবহবিজ্ঞানী ব্রহ্মপ্রকাশ যাদব জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ভারত-লাগোয়া এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে৷ সেই তাপপ্রবাহের রেশ ধরেই গরম হাওয়া ঢুকে পড়ায় উত্তর ভারতকে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে৷ উত্তরপ্রদেশে অধিকাংশ জেলাতেই তাপমাত্রা গড়ে ৪১ ডিগ্রি থাকছে৷ গতকাল এলাহাবাদে তা ৪৭ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল৷ রবিবার ভারতের উষ্ণতম জায়গা ছিল উত্তরপ্রদেশের বামরাউলি (৪৭.৭ ডিগ্রি)৷ রাজস্থানে সবথেকে বেশি গরম (৪৬.৫ ডিগ্রি) পড়েছে জয়সলমের জেলায়৷ পাশাপাশি, বুন্দি ও চুরু এলাকার তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৭ ও ৪৫.২ ডিগ্রি৷ ওডিশার ন’টি এবং ১৯টি এলাকায় তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০ ডিগ্রির উপরে রয়েছে৷ ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জ্বলছে ভুবনেশ্বর৷

তবে মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ের অধিকাংশ জায়গায় গরম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেই খবর৷ সেখানে কয়েকটি জায়গায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাল্কা বৃষ্টিপাতও হয়েছে৷