বৈশাখ উদযাপনে এবার বাঙালির সঙ্গী হচ্ছেন থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মন্ত্রী উইরা রাজপুটচানারাত। এদেশের সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে নিজেই বাঙালির এই উদযাপনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্র ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৬ মার্চ থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সে অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন উইরা রাজপুটচানারাত। অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হন তিনি। জানতে পারেন বাংলা ও থাই নববর্ষের মধ্যে পার্থক্য মাত্র একদিনের। উৎসব উদযাপনেও মিল আছে বেশ। এরপরেই তিনি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

১৩ এপ্রিল মধ্যরাতে ব্যংকক এয়ারের একটি ফ্লাইটে দুদিনের সফরে পাঁচ সদস্যের দল নিয়ে ঢাকা পৌঁছ‍ুবেন থাই মন্ত্রী। পহেলা বৈশাখের ভোরে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে যাবেন রমনার বটমূলে। সেখানে উপভোগ করবেন বাঙালির বৈশাখের প্রধান আয়োজন। এরপর অংশ নেবেন মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

এ সফরে দুই মন্ত্রীর মধ্যে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এক্সক্লুসিভ কালচারাল এগ্রিমেন্টও স্বাক্ষর হবে।

শুধু সংস্কৃতির বিনিময় নয়, দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায়ও এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বাংলাদেশ ১০ সদস্য বিশিষ্ট আসিয়ানের (দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা) ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। এজন্য এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাংলাদেশের প্রতি আরো আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। বৌদ্ধ ধর্ম প্রধান এ দেশগুলোকে বোঝানো প্রয়োজন, বাংলাদেশ স‍াংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধশালী একটি দেশ।

এ বিষয়ে থাইল্যান্ডে নিযু্ক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম বাংলানিউজকে বলেন, থাই সংস্কৃতি মন্ত্রী নিজে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার  দেশ থাইল্যান্ড আসিয়ানের অন্যতম সদস্য। তাদের মাধ্যমে অন্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির
দৃষ্টিভঙ্গীগত দূরত্ব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আর তখনই আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার বিষয়ে সদস্যদেশগুলো আরো আন্তরিক হবে।

আসন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও থাই সংস্কৃতিমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিনি ঢাকার বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করবেন। এপ্রিল ঢাকা ছাড়বেন থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মনা এই মন্ত্রী।

থাইল্যান্ডের নববর্ষের নাম ‘সংক্রান’। এই উৎসব এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত বৌদ্ধ নববর্ষ উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়। তারা রাস্তায় পানির পিচকারি বা বালতিতে বরফ নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়। ১৩ এপ্রিল সে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েই রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন উইরা রাজপুটচানারাত।