বেসরকারি স্কুল-কলেজে (পিএসসি) পরীক্ষার আদলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া হবে

0
367
বেসরকারি স্কুল-কলেজে এখন থেকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার আদলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেয়া হবে। শিক্ষক হতে ইচ্ছুক একজন পরীক্ষার্থীকে দুই ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে। নিবন্ধনের জন্য লিখিত পরীক্ষার আগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রিলিমিনারি পাস করার পরই কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আয়োজিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রিলিমিনারি হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী আগস্টে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা।

 

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রণীত মেধা তালিকা থেকেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে— এমন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান নিয়মে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে না। ফলে নিবন্ধন পরীক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন এ পরিকল্পনা।

তথ্য অনুযায়ী, এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা নিরূপণ, শূন্য পদের সংখ্যা অনুযায়ী লিখিত নিবন্ধন পরীক্ষার পর নির্ধারিত নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় ভিত্তিক মেধা তালিকা করবে। এরপর মেধাক্রম ও চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করবে। স্কুল-কলেজ পরিচালনা কমিটি শুধু যোগদানপত্র দেবে। তবে কোনো প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর না পেলে মেধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, এটা করা গেলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ আছে, তা দূর হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করতে চাই। মেধাবীদের বাছাইয়ের জন্যই মেধা তালিকা তৈরি করে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা একটি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ গঠন করবো। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, কোন এলাকায় একটি স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন হলে তারা শুধু ‘চাহিদাপত্র’ পাঠাবেন। আমরা শিক্ষকদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে তালিকা পাঠিয়ে দেব। ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ শুধু নিয়োগ দেবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সকলের মতামত নিয়েছি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরো মতামত নেব।

বর্তমান নিয়মে সংসদ সদস্যরা নিজ নির্বাচনী এলাকার সর্বোচ্চ চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে পারেন। অন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হন এমপিদের পছন্দের ব্যক্তিরা। এ কারণে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রাধান্য পায়। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা হারাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। সারা দেশে প্রায় ১৯ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, সাড়ে তিন হাজার কলেজ ও সাড়ে নয় হাজার মাদ্রাসা রয়েছে।