প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানের যাত্রী সেবা ও পরিচালনার মান বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিমানকে আরো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাই। এটা অর্জন করতে হলে জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজকে সেবার মান বৃদ্ধি করে সময়োপযোগী, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে বিমানের ভাবমূর্তি রক্ষার মাধ্যমে যাত্রীদের আরো বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট চলাচল নিশ্চিত হলে বিমানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। সৈয়দপুর এবং কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত এবং বাগেরহাটে একটি বিমান বন্দর স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ রুট এবং সংস্থার বহরে সংযোজিত দুটি উড়োজাহাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পাঁচ বছরের জন্য লীজে আনা উড়োজাহাজের একটির নাম দেয়া হয়েছে ‘মেঘদূত’ এবং অপরটির নাম ‘ময়ূরপঙ্খী’। ৭৪ আসন বিশিষ্ট এ দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে আজ সোমবার থেকে ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-সৈয়দপুর ও ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। প্রতি সপ্তাহে কক্সবাজারে ছয়টি, যশোরে পাঁচটি, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে তিনটি এবং বরিশালে দুটি করে ফ্লাইট চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর এবং কক্সবাজারের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটবে। বিমানের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মান উন্নত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে পার্টনার খোঁজা দরকার। বিমানকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে সেই ধরনের ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে।
পণ্য পরিবহনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিমানকে লাভজনক করতে হলে কার্গো ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে কার্গো ছাড়া শুধু যাত্রী টেনে লাভজনক হওয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, আর আমরা কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ জন্য খাদ্যসামগ্রী রফতানির জন্য কার্গো ব্যবস্থা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটান এবং উত্তরবঙ্গে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, পর্যটন নগরী হিসাবে কক্সবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হলে শুধু পর্যটকরাই ব্যবহার করতে পারবে না, পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে যাওয়ার সময় বিমান কক্সবাজারে রি-ফুয়েলিংও করতে পারবে।
হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি, বিমান বন্দরের রানওয়ের উন্নয়ন, পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল ও দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে। এছাড়া বিমানের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছরের মধ্যে আরো দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব খুরশীদ আলম চৌধুরী, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামালউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকতা কাইল হেউড। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কাটার পর নতুন উড়োজাহাজ দুটি পরিদর্শন করেন।