প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নয়, আওয়ামী লীগই দেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে যারা মন্ত্রী বানাতে পারে সেই দল কি জাতীয়তাবাদী দল হতে পারে? যে রাজকারদের সহযোগিতায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তাদেরকে যারা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে, তারা কি জাতীয়তাবাদী হতে পারে ?
জয় আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বনাম উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এস সেমিনারে একথা বলেন।
সেমিনারে সূচনা বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এ আরাফাত। নির্বাচিত বিষয়ের ওপর আরও বক্তব্য রাখেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, শোলাকিয়া ঈদগাঁহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকার দুই মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেমিনারে সহিংসতার দিনলিপি নামক একটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
বিএনপি-জামায়াতের সর্বশষ ৯২ দিনের আন্দোলনের সহিংসতার চিত্র দিয়ে ও সংবাদপত্রের ক্লিপিংস দিয়ে তৈরি বইটি সম্পাদন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির। সেমিনার শেষে একটি নান্দনিক লেজার শোর আয়োজন করা হয় সম্মেলন কেন্দ্রের হল অফ ফেমে।
সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করে যে দল, যুদ্ধাপরাধীদের-সন্ত্রাসীদের বিচার করছে যে দলÑসেই দলই হচ্ছে আসল জাতীয়তাবাদী দল। বাংলাদেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বিএনপি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এ দলটি দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। আমি যেখানে থাকি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আমাকে অপহরণ করে হত্যার জন্য এক বিএনপি নেতার ছেলে ষড়যন্ত্র করেছিল। সে কারণে বিএনপি নেতার সেই ছেলে এখন কারাগারে রয়েছে। সিটি নির্বাচন নিয়েও বিএনপি ষড়যন্ত্র করেছিল, সেটা প্রমাণ পাওয়া যায় দলের নেতা নজরুল ইসলাম খানের কথোপকথনে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেই দল, যে দল দেশের স্বার্থের জন্য বিশ্বের কারো কাছে মাথানত করে না। বিশ্বের চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে পারে। কারণ দেশের জনগণ দলটির সাথে আছে বলেই আমরা এটা করতে সাহস পাই।
জয় বলেন, আমাদের আরও দুঃখ হয় তারপরও সেই দলের পক্ষে কথা বলতে অনেকে লজ্জা পান, জয় বাংলা বলতে লজ্জা পান। এটা খুবই লজ্জার বিষয়।
তিনি বলেন, জয় বাংলা শ্লোগান শুধু আওয়ামী লীগের না, এটা আমাদের বাংলাদেশের শ্লোগান। যে ব্যক্তি জয় বাংলা বলতে লজ্জা পাবে, আমি বলবো সে বাঙালি না, বাঙালি হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের সামনে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ আমাদের মাথা নিচে নামাতে পারবে না। গত ৬ বছর আওয়াম লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। সবচেয়ে বড়ো কথা, নেপালের প্রাকৃতিক দূর্যোগে বাংলাদেশের বিমান পানি-চাল-কম্বল নিয়ে সাহায্য করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের বাংলাদেশ সাহায্য করছে পাশের দেশকে। এই ক্ষমতা এখন আমাদের আছে।
কিছু গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করে জয় বলেন, খবরের কাগজ যদি হয়ে থাকে তাহলে তাহলে সঠিক খবরটি দিতে হবে। সেটা সরকারের পক্ষে যাক আর বিপক্ষে যাক।
এ বিষয়ে একটি সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে জয় বলেন, নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর চল্লিশটি নালিশ এসেছে নির্বাচন কমিশনে। খবরটি পড়ে আমি বললাম, এটা তো সুখবর। কারণ যদি হিসাব করি, চল্লিশটি নালিশ যদি চল্লিশটি ভোটকেন্দ্র থেকে আসে। তাহলে মোট দেড় শতাংশ ভোট কেন্দ্র থেকে নালিশ এসেছে। তার মানে আমাদের ২৭০১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬৬০টি কেন্দ্রে সুন্দর ভোট পড়েছে। সেখানে কোন কারচুপি হয়নি।
জয় বলেন, তারপরও কিছু কিছু মিডিয়া আছে যারা ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। তারা পছন্দ করে না, কোনো রাজনৈতিক দল এগিয়ে যাক, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। তাদের চোখ অন্য দিকে। কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। কারণ তারা জানে মানুষের ভোটে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না তারা।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে বলেন, আওয়ামী লীগ ৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশ এগিয়ে গেছে। কারণ দেশকে এগিয়ে নিতে ভালবাসতে হয়। আগে বিদ্যুৎ জন্য হাহাকার ছিলো। এখন সেটা নেই। খাদ্য খাটতি ছিলো। খাদ্য খাটতি পুরণ হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। এখন পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালেও আমরা খাদ্য সহায়তা পাঠাতে পারছি। এটা সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে। অন্য সরকারগুলো বিদেশের কাছ থেকে হাত পেতে ভিক্ষা নিত।
সৈয়দ শামসুল হক বলেন, মানুষ বাচতে চায়, শান্তি চায়। তাই আমাদের সন্ত্রাসের বিপক্ষে অবস্থান। সন্ত্রাস দুই ধরনের। একটি নাশকতা জঙ্গিবাদী। আরেকটি হচ্ছে শীতল সন্ত্রাস। সব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা যা বলে তা করে। তিন মাস হরতাল-অবরোধের নামে সারাদেশসহ ঢাকা শহরে যে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার, শিশু, বাস চালককে হত্যা করা হয়েছে, সে জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিচার হবেই হবে। ঢাকার রাজপথেই খালেদার বিচার করা হবে। আমরা শেখ হাসিনার, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সৈনিক তাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধী, ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে শান্তিময় ঢাকা শহর গড়ে তুলবো।
ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, সন্ত্রাস ও নাশকতা কেউই পছন্দ করে না। শেখ হাসিনার সরকারও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে দাড়িয়েছেন। জনগণের শান্তি-নিরাপত্তা দিতে যা যা করা দরকার তাই করেছেন। যারা এ দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না তারা সবচেয়ে বড় রাজাকার। দেশবাসীর সবার উচিত এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
শোলাকিয়া ঈদগাও মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, উন্নয়ন চান, গণতন্ত্রের পথে চলবেন না তা হবে না। গণতন্ত্র চান, উন্নয়নের পথে আসবেন না এটা হবে না। কোনো ধর্মই সন্ত্রাস পছন্দ করে না। জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায় না। স্বাধীনতার এত বছর পর এখনো শুনতে হয়, দেশে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি শক্তি। এটা বড় লজ্জার কথা। স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে।