প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করেছে। অপরদিকে, বিএনপি-জামায়াত বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই, দিয়েছে গুলি।

বিএনপি সরকারের আমলে কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য আপনারা আন্দোলন করায় তাঁরা আপনাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। সেদিন ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা করেছিল তারা।

শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ দিলে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে ধ্বংস করে। বিএনপি মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। জামায়াত মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। তারা মানুষের ধ্বংস করতে পারে। এদের মতো জঘন্য রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর দেখে নাই।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় নাশকতায় আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, গাড়ি জ্বালানো ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, মানুষ হত্যা করা তার (খালেদা) চরিত্র। বিএনপি মানে ধ্বংস, জামায়াত মানে ধ্বংস।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দিলো, মানুষ পুড়িয়ে মারলো। ৯৩ দিন হরতাল-অবরোধ করেছে বিএনপি-জামায়াত। এই ৯৩ দিনে খালেদা জিয়ার তো কোনো ক্ষতি হয় নাই। সে তো ৬৩ জন লোক নিয়ে কার্যালয়ে বসে বসে খেয়েছে। ক্ষতি তো হয়েছে আমার কৃষকের, আমার দিনমজুরের।

সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি, ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি কোনোটাই বিএনপি-জামায়াত বাস্তবায়ন করাতে পারে নাই। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। বিএনপি পারে নাই কেনো? আওয়ামী লীগ পেরেছে।

ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুমোদনকে ‘বাংলাদেশের বিরাট অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায় করে। আমরা যখনই ক্ষমতায় এসেছি তখনই ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায় করেছি। বিএনপি বিরোধী দলে থাকলে মুখে ভারত বিরোধীতা করে আর গোপনে ভারতের চাটুকারিতা করে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপিত মঈনুদ্দিন মণ্ডলের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দিপু, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, গোলাম মোস্তফা ও আবদুল ওদুদ প্রমুখ।

এর আগে বিকেল ৪টার কিছু আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভামঞ্চে পৌঁছান। এ সময় দলীয় সভানেত্রীকে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানান।

দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির আ আ ম মেজবাউল হক স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার সাহেবের ঘাটে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন তিনি।