নড়াইল জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন এমন সংবাদ সবার মুখেমুখে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার (বরখাস্তকৃত) মেয়র জুলফিকার আলী মণ্ডল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নলদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান জামান আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন ! এমন গুজব এখন শহরের প্রতিটি অলি, গলি, চায়ের দোকান থেকে অফিস-আদালত পাড়া পর্যন্ত। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের মধ্যে নড়াইলে রয়েছে মূলত বিএনপি এবং জামায়াত। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ কারাগারে অবস্থান করছেন। বাইরে যারা আছেন তারাও পলাতক জীবন যাপন করছেন।

সরকারি অফিস ও গাড়ি ভাঙচুর এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগ মামলায় নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার বরখাস্তকৃত মেয়র জুলফিকার আলী মণ্ডল কারাগারে আছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নলদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যন আছাদুজ্জামান জামান বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে পলাতক জীবনযাপন করছেন। মামলা এবং পলাতক জীবন থেকে অব্যাহতি পেতেই এসব বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলে সূত্রটি জানায়।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। আমি কোনো সুবিধাবাদী নেতা নই যে দলের অদর্শ পরিবর্তন করবো ক্ষমতার লোভে।

লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নলদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান জামান আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি সঠিক নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেরকম কোনো কিছু হলে জানানো হবে।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার দলের নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন প্রকার হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেব তবুও অন্য কোনো দলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়নি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস আমার কাছে আওয়ামী লীগে যোগদান করার বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি জানিয়ে বলেন, ‘দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত রয়েছে কোনো সুবিধাবাদীকে আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হবে না। তবে কেউ নিজের পাল্লাভারি করার জন্য এসব বিএনপির নেতাদের দলে ভেড়ালে সেটা ঠিক হবে না বলে জানান তিনি।’