বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে ইটের দেয়াল তৈরির একটি প্রস্তাব আরাকান রাজ্যের আইনসভায় লিপিবদ্ধ হয়েছে। মিয়ানমারের একটি রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি’র (ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি) পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব গত সপ্তাহে তুলে ধরা হয়। এরপর চলতি সপ্তাহের সোমবার তর্ক-বিতর্ক শেষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভূক্ত করা হয়েছে।
মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। দি ইরাবতী নিউজ জানায়, ইউএসডিপি দলের একজন সংসদ সদস্য ইউ জো জো মিং এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারকে আলাদা করার জন্য সীমান্তে ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু ইটের দেয়াল তোলার সুপারিশ করেন। দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত এই দেয়ালের ঘনত্ব ৫ থেকে ১০ ফুট করার কথাও বলেন তিনি। তবে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দেয়াল তৈরির প্রস্তাব রাজ্যের পার্লামেন্ট পর্যন্ত গেলেও, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে এ ধরনের কোন খবর নেই। বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিবিসি’কে এ কথা জানিয়েছে।
এক দেশে থেকে আরেক দেশে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তার কারণে পশ্চিমা অনেক দেশগুলোত এ ধরনের দেয়াল তৈরির চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে উল্লেখ করেন মিয়ানমারের ওই রাজনৈতিক নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে মেক্সিকোর সাথে ২০০০ মাইল এলাকা জুড়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরির যে ঘোষণা দেন যেটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। এবার মিয়ানমারের ভেতরে এই ধরনের আলোচনা শুরু হল। অরাকান রাজ্যের তিনজন সংসদ সদস্য এই প্রস্তাবে সমর্থন দেন।
খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সীমান্তে ১২৭ মাইল এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবশ্য এ ধরনের কোন বেড়া তৈরি করা হয়নি। রাজ্যের সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রী কর্নেল তেইং লিন এ প্রস্তাব গ্রহণ করে বলেছেন, আমি প্রস্তাবে আপত্তি করছি না কারণ এরই মধ্যে সীমান্তে আমাদের কাজ চলছে। ফলে এটি রেকর্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ করছি।
সম্প্রতি আরাকান রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে সেখান থেকে শত শত মুসলিম রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া বহু রোহিঙ্গা মুসলিম বিয়ে করে বাংলাদেশেই বসবাস করছেন। অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন হিসেবে এই সংখ্যা পাঁচ লাখ বলা হলেও তা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।