বাংলাদেশে বছরে ১৮ হাজার শিশুর মৃত্যু

0
149

বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ১৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। ১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ পানিতে ডুবি।

এক বছর থেকে চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের হাম, কলেরা, ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যত শিশুর মৃত্যু হয় তারচেয়ে পানিতে ডুবে অনেক বেশি শিশু মারা যায়। আর এ সংখ্যা মোট শিশুমৃত্যু সংখ্যার ৪৩ শতাংশ। সম্প্রতি শিশুদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার কমাতে বাংলাদেশের এ ধরনের দৃঢ় প্রত্যয় আর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রশংসা করা হয়েছে কোয়ার্টজের প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের শিশুমৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে, কোয়ার্টজ জানায়, ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অন্যান্য কারণে শিশুমৃত্যু হার কমে আসলেও পানিতে ডোবার কারণে মৃত্যুহার আগের অবস্থানেই আছে। বিশেষ করে বর্ষাকালীন সময়ে যখন দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়, তখন এ শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যায়।

অনেক শিশুরই মৃত্যু হয় বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে। অর্থাৎ যেসব জায়গায় পুকুরে গোসল করা হয় সেখানে এ প্রবণতা বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয় দেশের এক তৃতীয়াংশ লোকই পুকুরে গোসল করে থাকেন। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত শিশুদের অপেক্ষাকৃত ভালো সাঁতারু বলে উল্লেখ করেছে কোয়ার্টজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে শিক্ষার্থীদের সাঁতার অনুশীলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলগুলোর পাশাপাশি জলাশয়গুলোকে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসম্মত ও সাঁতার উপযোগী করার নির্দেশ দেয়া হয়।

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার কমাতে এরইমধ্যে সাঁতার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পানিডুবি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ কওে প্রশংসা করে কোয়ার্টজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন সমন্বিতভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাঁতার শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছিল ইউনিসেফ আর সুইমসেফ।