লোকসভা ও রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পথে আইনগত বাধা দূর করাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার্লিন ওয়াল পতনের সাথে তুলনা করেছেন। বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে ভারতীয় দৈনিক ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাতকারে মোদি এ মন্তব্য করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে আগামী ৬ জুন ঢাকা আসছেন। ১৯৮৯ সালে বার্লিন ওয়াল পতনের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এক হয়। এ প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে ১৯৬১ সাল থেকে কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব জার্মানিকে পুঁজিবাদী পশ্চিম জার্মানি থেকে পৃথক করে রাখা হয়েছিল। ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাতকারে মোদি বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিয়ে আমরা বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন স্থল সীমানা ইস্যুর নিষ্পত্তি করেছি। মিডিয়া এই বিরাট অর্জনকে অনুধাবন করতে না পেরে অন্যান্য ইস্যুতে কথা বলেছে। বিশ্বের অন্য কোথাও এ ঘটনা ঘটলে এটিকে বার্লিন ওয়াল পতনের মতই উদাহরণ দেয়া হত। এ ঘটনায় আমাদের প্রতিবেশীর মনোভাবে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। আমি বাস্তববাদী এবং ফলপ্রসু কূটনীতিতে বিশ্বাসী। সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের সাথে অনিষ্পন্ন অপর ইস্যু তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে মোদি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশের মতই চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত ইস্যু নিষ্পত্তি করা যাবে কিনা- প্রশ্ন করা হলে মোদি বলেন, আমি চীনের জনগণের সাথে সবেমাত্র সাক্ষাত করেছি এবং বুঝতে পেরেছি যে বিশ্বাসের একটি জানালা খোলা আছে। দেখি এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, এ সম্পর্কটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতে জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নে আমি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতীয় মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের সাথে মানবপাচার প্রতিরোধে এমওইউ অনুমোদন : ভারতের মন্ত্রিসভা আজ বাংলাদেশের সাথে মানবপাচার প্রতিরোধে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তিতেও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ দুটি মোদির আসন্ন ঢাকা সফরকালে সই হবে।