ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভাতিন্দা এলাকায় একটি ছোট্ট দোকান পরিচালনা করেন আবদুল করিম ও জাহিদা বেগম দম্পতি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন তারা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ এলাকায় একটি ছোট দোকান দিয়েছিলেন। ৩ ছেলে নিয়ে থাকেন দোকানসংলগ্ন একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে। দুই, ছয় ও আট বছর বয়সী সন্তানদের কেউ স্কুলে যায় না। তবে চলতি বছর বড় ছেলেকে স্কুলে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন এ রোহিঙ্গা দম্পতি।

২০০৮ সাল থেকে ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করছে। করিম ও জাহিদা ২০১২ সালে মিয়ানমার সেনাদের রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান থেকে বেঁচে পালিয়ে এখানে আসেন। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের (ডিএজেআই) তথ্যমতে, ভারতে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গার বাস। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা জম্মু কাশ্মীরে বসবাস করেন।

তবে সম্প্রতি বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরজুড়ে রোহিঙ্গাবিরোধী বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী জম্মু ছাড়ো। এ ছাড়া তারা সেখানের অধিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ‘জেগে ওঠো, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ডোগরাদের স্বপরিচিতি রক্ষা করো।’

জম্মুর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়কে ‘ডোগরা’ বলা হয়ে থাকে। জম্মু-কাশ্মীরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টি এমন বিলবোর্ড লাগিয়েছে। হিন্দু উগ্রপন্থী এ রাজনৈতিক দলের নেতা হার্শ দেব সিংয়ের ছবিও ওই বিলবোর্ডে জুড়ে দেয়া রয়েছে।

আল জাজিরাকে হার্শ বলেন, ‘মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জম্ম এলাকায় দুই-তৃতীয়াংশ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি সাধারণ অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে, যেটি সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি।’