বর্ষবরণের উৎসবে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় আশরাফুল আলম নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি শাহবাগ থানায় কর্মরত এবং ঘটনার সময় ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পরদিনই এসআই আশরাফুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।

রোববার সকালে শাহবাগ থানার ওসি জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, একজন যৌন নিপীড়ককে ধরে তার হাতে দেয়া হয়েছিল। আশরাফ তা অস্বীকার করে। এজন্য তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফের গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে এক দল যুবক নারীদের যৌন হয়রানি করে। এমনকি এক তরুণীর বস্ত্রহরণের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। তাতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন।

লিটন নন্দী পরে গণমাধ্যমকে জানান, বস্ত্রহরণ করা তরুণীকে সে তার গায়ের পাঞ্জাবি খুলে দেন শরীর ঢাকার জন্য।

ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ থাকলেও নারীদের ওপর হামলা ঠেকাতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সে সময় চার নিপীড়ককে ধরে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফের কাছে দেয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন।

বর্ষবরণ উৎসবে যৌন হয়রানির ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও নিপীড়কদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করার পাশাপাশি সেদিন পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতেও একটি কমিটি করা হয়েছে বলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশের তদন্তে যৌন হয়রানির কোন ঘটনা সেখানে হয়নি এবং নিপীড়কদের শনাক্ত করা যায়নি বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম শনিবার জানিয়েছেন।

অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে বলেছে পুলিশ। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, কোনো ভিকটিম বা নারী এখনও পুলিশের কাছে এসে কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। কেউ নিগৃহীত হয়েছেন, এমন কারও অভিযোগ পায়নি পুলিশ।