নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সব কর্মকর্তার কক্ষেই ছিল টেলিভিশন। স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমে প্রচারিত খবর দেখাসহ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল তাঁদের। অথচ প্রায় সব কর্মকর্তাই নিজেদের রুমে বসে আজ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা দেখেছেন।

এমন অবস্থা কেন?—এ প্রশ্নের জবাবে প্রায় সব কর্মকর্তাই হতাশা প্রকাশ করলেন এ নির্বাচন নিয়ে। নাম প্রকাশ না করে একাধিক কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনার কথা বলেছেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।

একজন কর্মকর্তা জানালেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয় সে জন্য তাঁরা অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু সকাল থেকে গণমাধ্যমসহ পরিচিতজনদের কাছ থেকে তাঁরা কোনো ভালো খবর পাননি। সবখানেই খারাপ খবর। একটাই খবর—নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না।
এক কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বললেন, কোনো মা যখন দশ মাস গর্ভে সন্তান ধারণ করে সুস্থ বাচ্চা প্রসব করেন, তখন তিনি তাঁর সব কষ্ট ভুলে যান। কিন্তু যখন কোনো মা দেখেন, তাঁর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের মধ্যে কোনো ত্রুটি আছে, কষ্টটা আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যাঁরা আমরা কাজ করেছি আমাদের মধ্যে সে মায়ের মতো কষ্টটা বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই।’
আপনারা তো বলেন যে কমিশন স্বাধীন—প্রতিবেদকের এমন কথায় ওই কর্মকর্তা হেসে বলেন, ‘সরকারের চাইতে তো আর স্বাধীন না। কোনো সরকারই চায় না যে কমিশন সরকারের চাইতে স্বাধীন হোক

ক্ষোভ আর হতাশা কাজ করছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রায় সবার মধ্যেই। নির্বাচনের প্রসঙ্গে কথা বললেই হাসছেন সবাই। বলছেন, সবইতো দেখছেন কী হলো। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে কয়টা অভিযোগ এসেছে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন থেকে তা জানানো হয়নি। তবে কমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ১৫ থেকে ১৬টি অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে।