প্রতিবেশী দেশ ভারতের জনগণের চেয়ে সুখী বাংলাদেশের জনগণ। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) প্রকাশিত ‘বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৫৮টি দেশের জনগণের জীবন প্রত্যাশা, সামাজিক সহযোগিতা, জীবন চলার পথ পছন্দের স্বাধীনতা ও জিডিপির ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। আর ভারত রয়েছে ১১৭তম অবস্থানে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ভুটান। বৈশ্বিক এই তালিকায় দেশটির অবস্থান ৭৯তম। ৮১তম অবস্থানে থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সুখী দেশের মর্যাদা লাভ করেছে পাকিস্তান।

তবে সুখী দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এর পরেই অবস্থান যথাক্রমে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও কানাডার।

এদিকে, প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে অসুখী দেশের তালিকায় সবার তলানিতে রয়েছে টোগো। এরপর ক্রমান্বয়ে অবস্থান বুরুন্ডি, সিরিয়া, বেনিন ও রুয়ান্ডার।

তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ১২১তম অবস্থানে ও দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। এরপর ১৩২তম অবস্থানে শ্রীলঙ্কা ও ১৫৩তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। মালদ্বীপকে এই তালিকার অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তবে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রকে কেন এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

তালিকায় সুখী দেশের সেরা দশে ঠাঁই না হলেও বেশ ওপরের দিকেই অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। নতুন এই তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৫তম। এরও ছয় ধাপ নিচে ১২১তম অবস্থান যুক্তরাজ্যের। তবে ইসরায়েল বিশ্বের ১১তম ও রাশিয়া ৬৪তম সুখী দেশ।

অন্যদিকে, ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সন্ত্রাসে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠা ইরাক ১১২তম অবস্থানে ও সিরিয়া রয়েছে ১৫৬তম অবস্থানে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন রয়েছে বাংলাদেশের একধাপ ওপরে ১০৮তম অবস্থানে।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেফরি স্যাকস বলেন, সামাজিক প্রত্যাশা মানুষকে দিন দিন উন্নত করছে। এই প্রতিবেতন সামাজিক উন্নয়নের প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। সুখী হতে শুধু অর্থই নয়, সঙ্গে স্বচ্ছতা, সততা, বিশ্বাস ও সুস্বাস্থ্যেরও প্রয়োজন।

এদিকে, ২০০৫-২০০৭ থেকে ২০১২-২০১৫ সাল পর্যন্ত ১২৫টি দেশের অবস্থা পর্যালোচনা করে একটি তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হয় এসডিএসএনর এ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, এ সময়ে ৫৩টি দেশ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ৪১টি দেশের অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে গেছে। বাকি দেশগুলোর অবস্থা অপরিবর্তিত।

তবে ‍এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের জীবন মানেরও লক্ষ্যণীয় উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।