প্রশাসনে ৮৭২ কর্মকর্তার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। গতকাল রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদোন্নতির এই আদেশ জারি করে। এর আগে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেন।

অতিরিক্ত সচিব পদে ২৩১ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২৯৯ জন এবং উপ-সচিব পদে ৩৪২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়। সর্বশেষ এই পদোন্নতির আগেই উপ-সচিব ৮৩০টি মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে ১ হাজার ৪৭৬ কর্মরত ছিলেন। এখন তা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৮১৮ জন; যুগ্ম সচিবের ৩৩০টি পদে কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৭০ জন থেকে বেড়ে এখন হল ৮৬৯ জন এবং অতিরিক্ত সচিবের ১০৭টি পদে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ১৪২ জন। এখন তা বেড়ে হল ৩৭৩ জন।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেয়া বড় পদোন্নতির এই প্রক্রিয়ায় অনেক যোগ্য কর্মকর্তারই পদোন্নতি হয়নি। অন্তত ছয়শ’ কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন এই পদোন্নতির প্রক্রিয়ায়। তিন স্তরে (উপ-সচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব) দেয়া এই পদোন্নতিতে প্রশাসনের সাংগঠনিক  কাঠামোয় আরো বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হল।
অস্বাভাবিক সংখ্যায় পদোন্নতি
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদসংখ্যার তুলনায় অস্বাভাবিক সংখ্যায় কর্মকর্তার পদোন্নতি দেয়ায় এই চাপ সৃষ্টি হবে। তারা বলছেন, পদোন্নতি প্রাপ্তের সামজিক মর্যাদা বাড়বে, কিছু আর্থিক সুবিধাও বাড়বে। কিন্তু তাদের প্রায় সকলকেই অধঃস্তন পদে থেকেই কাজ করতে হবে। কারণ এর আগে দেয়া পদোন্নতি প্রাপ্তরা এখনো বসার জায়গা পাননি। বেশিরভাগই এখনও পদোন্নতিপূর্ব পদেই কাজ করছেন। অর্থাত্ যিনি অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন তিনি কাজ করছেন যুগ্ম সচিবের, যুগ্ম সচিব কাজ করছেন উপ-সচিবের আর উপ-সচিব কাজ করছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব তথা ডেস্ক অফিসারের পদে।
বঞ্চিত অনেকে :প্রশাসনে পদ ভেদে দুই, তিন কিংবা চার বছর চাকরি অভিজ্ঞতা ও সমগ্র চাকরি জীবনের কর্মদক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি বিবেচনা করার কথা। কিন্তু ৯০ দশকে নির্বাচিত সরকার পর থেকে দেখা যায়, আরো তথ্যের প্রয়োজন অথবা জনতার মঞ্চের কর্মকর্তা এই মন্তব্য লিখে অসংখ্য কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে রাখার রীতি চালু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সরকারগুলো এ অর্থাত্ আওয়ামী লীগ, বি অর্থাত্ বিএনপি, বিজে অর্থাত্ বিএনপি-জামায়াত আর জে অর্থাত্ ঘোর জামায়াত এভাবে কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে পদোন্নতি থেকে শুরু করে নিয়োগ/পদায়ন আটকে রাখার ধারা চালু করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও অসংখ্য কর্মকর্তাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ না থাকায় পদোন্নতি দেয়াটা অনেকদিন ধরে চলে আসছে কিন্তু এটি সম্পূর্ণ আইনবর্হিভূত কাজ। কারণ রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা দেয়া হয় পদের বিপরীতে। এখন একজন কর্মকর্তা পদ না পেয়েও বেতন-ভাতা নেবেন এটি বিধি-বিধান বর্হিভূত। তবে আইন অনুযায়ী মূল পদে চাকরির মোট সময় অতিক্রান্ত হলেই একজন কর্মকর্তার (অন্যান্য যোগ্যতা সাপেক্ষে) পদোন্নতি দেয়াই উচিত। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখার ফলে এখন পদোন্নতি যোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যাও বেড়ে গেছে। ফলে এখন পদোন্নতি দেয়াটাই জরুরি ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সময়ের প্রয়োজনে এখন জরুরিভাবে প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার আনা দরকার। মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় কোথায় কী ধরনের পদে কত জনবল প্রয়োজন সেটি ঠিক করা দরকার। তা না হলে পদোন্নতির যোগ্য সব কর্মকর্তার সময়মতো পদোন্নতি যেমন দেয়া সম্ভব হয় না-তেমনি পদোন্নতি দেয়ার পর পোস্টিং দেয়াও সম্ভব হয় না।