প্রিজাইডিং অফিসারের রুম কোথায়- জানতে ঢাকা উত্তরের মিরপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১, ২০২, ২০৩ ও ২০৪ নম্বর ভোট কেন্দ্রের দিগবিদিক ছুটছিলেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থি তাবিথ আউয়াল। তার সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও অনলাই মিডিয়াসহ এক ডজন সাংবাদিক।

অবশেষে একই স্থানে অবস্থিত চারটি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একটি ভোট কেন্দ্রের (২০৪) প্রিজাইডিং অফিসারের খোঁজ পাওয়া যায়। সেই রুমে গিয়ে দেখা যায় ভেতর থেকে দরজা আটকানো। আর জানালা দিয়ে কক্ষের ভেতরে দেখা যায় দায়িত্বরত কর্মকর্তার টেবিলে একটি অরক্ষিত খোলা ব্যালট বাক্স (ভোট বাক্স)। আর দরজার সামনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে নেমপ্লেট বিহীন একজন পুলিশ কনস্টেবল।

তার মাধ্যমেই ডাকা হলো দায়িত্বরত ওই প্রিজাইডিং অফিসারকে। পরে দরজা খুললেও, হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও দরজার বাইরে আসতে নারাজ ওই প্রিজাইডিং অফিসার। তিনি কক্ষের ভেতর থেকেই দরজার ফাঁকে মুখটা বের করে দিয়ে বলেন, কী জানতে চান?

তখন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘বাইরে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা দেখছি তাদের কারও র‌্যাংক ব্যাচ এবং নেমপ্লেট নাই। আসলে এর কারণটা কী? তাহলে আপনারাই বা চিনবেন কীভাবে কারা কারা এখানে ডিউটিরত অবস্থায় আছে। এর একটা সঠিক উত্তর দিবেন কী?’

তাবিথের প্রশ্নের উত্তরে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ‘আসলে এটা আমার দেখার বিষয় না। পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপারে আমরা কিছু বলতেও পারবো না। প্রিজাইডিং অফিসারের কাজ হচ্ছে পুরা বিষয়টা ‘সিকিউর’ করা। কে কী করলো সেটা আমরা বলতে পারবো না।’

তাবিথ সেময় আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকে আমাদের একটা লোককেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয় নাই। আর যারা ভিতরে ছিল তাদেরও হুমকি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে বলে আমি স্থানীয়দের কাছে শুনতেছি। তাছাড়া এখানে এসে দেখলাম আমার কোনো পোলিং এজেন্ট নাই। এর কারণটা কী? আর আপনারও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেন নাই কেন? তাছাড়া এই কেন্দ্রে নারী লাঞ্ছিত হওয়াসহ নানা ঘটনা ঘটেছে তবুও আপনি সেনাবাহিনীর সহয়তা চাননি কেন?’

উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আপনাদের জন্য এজেন্ট চেয়েছিলাম। কিন্তু আসেননি। তাহলে আমি কী করবো।’

ওই ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক নামে বিএনপিপন্থি এক কাউন্সিলর অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আসতে দেয়নি, তাহলে কীভাবে আমাদের এজেন্টরা আসবে। মহিলা ভোটাররা লাঞ্ছিত হয়েছে, আমরা এ ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারাসহ পুলিশ বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসবের কারণটা কী? তাছাড়া এই জায়গায় চারটি কেন্দ্র আছে, সেখানে শুধু আপনি একাই কেন দায়িত্ব পালন করছে, বাকিরা কোথায়?’

ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সব প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, ‘এসব আমাদের বলে লাভ নেই। ইসিকে বলুন। আমাদের বলে কী লাভ। তাছাড়া এখানে এসে আপনারা (সাংবাদিকরা) এইভাবে ইন্টারভিউ করতে পারেন না। এখানে সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হচ্ছে এবং হবে।’

তখন ওই কর্মকর্তা একটু ঘরের দরজার বাইরে আসার জন্য শত অনুরোধ করা সত্ত্বেও আসেননি। একটু পর দেখা যায় তার কক্ষের ভেতরে ডেস্কের উপর ব্যালট পেপারসজ একটি ভোট বাক্স। ভেতরে ব্যালট বাক্সটা কীসের? ওই ব্যালট বাক্সটা একটু দেখাতে হবে।

তিনি তখন উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘না, এটা দেখা যাবে না। আপনারা ভিতরে আসবেন না। নির্বাচন কমিশন সাতটি বুথের জন্য সাতটি ব্যালট বাক্স বরাদ্দ দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি অতিরিক্ত, সেটি আমার এই রুমে রাখা হয়েছে।’

তাহলে সেটি অরক্ষিত বা খোলা কেন, ব্যালট বাক্সটা কী দিয়ে ভরতি করা হয়েছে- সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এব্যাপারে আমার কোনো ব্যাখ্যা নাই। আর আপনারা এভাবে আমার রুমে ঢুকতে পারেন না।’

এরপর অপ্রস্তুত হয়ে ‘এই পুলিশ’ বলে ‍চিৎকার করে ওঠেন তিনি। তখন কয়েকজন পুলিশ (নেমপ্লেট বিহীন পুলিশ কনস্টেবল) এসে সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। আর সেখানে সাংবাদিক ও তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে ওই প্রিজাইডিং অফিসারের বাকবিতণ্ড শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি সবাই ঠেলে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন।