নেপালে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৮৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫২৪ জনই মারা গেছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে। শনিবার সকালের ওই ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটির কাঠমাণ্ডু, পোখরাসহ বেশ কিছু এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে নেপালের পোখরা থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ৩১ কিলোমিটার গভীরে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের রাজধানী। ভেঙে পড়েছে বহু বাড়ি। রাস্তাজুড়ে বড় বড় ধস নেমেছে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কাজে লাগানো হচ্ছে হেলিকপ্টারও।
বিপদের মুখে পড়েন পর্বতারোহীরাও। তুষারধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় মাকালু বেসক্যাম্প। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন বাঙালি পর্বতারোহীরা। তবে বেশ কয়েকজনের খোঁজ নেই বলে জানা গেছে।

চরম এই ক্ষতির মোকাবিলা করতে ভারত সরকারকে পাশে পেতে চেয়েছে নেপাল। ভারত সরকার বিমানে করে ত্রাণ সামগ্রীও পাঠিয়ে দিয়েছেন নেপালের উদ্দেশে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে বিমানবাহিনী ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে। বিষয়টি নিয়ে নেপালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিয়েছেন পাশে থাকার আশ্বাস।
ভূমিকম্পের এই ভয়াবহতায় ফিরে আসছে ১৯৩৪ সালের ভয়াবহ স্মৃতি। পরিসংখ্যানবিদদের দাবি, সেবার ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩। যার আঘাতে তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা নেপাল। মারা গিয়েছিলেন কমপক্ষে সাড়ে আট হাজার মানুষ।